১৭ জুলাই ২০১৯

রিকশা বন্ধ হলো রাজধানীর ৩ সড়কে

রিকশার কারণে যানজটের এই চিত্র হয়তো আর দেখা যাবে না রাজধানীতে -

রাজধানীর প্রধান দুই রুটের তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ হয়েছে গত রোববার থেকে। গাবতলী থেকে মিরপুর রোড হয়ে আজিমপুর ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত প্রধান সড়কে আর চলতে দেয়া হচ্ছে না রিকশা, ভ্যানসহ অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন অন্য যানবাহন।
রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই ঢাকার পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রথম সভায় প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব সড়কের মূল অংশে সব ধরনের রিকশা, ভ্যান ও অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে এসব সড়কের সাথে সংযোগকারী সড়কগুলোতেই শুধু চলাচল করতে পারবে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন পাওয়া রিকশা।
ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং আরো কয়েকটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাবতলী থেকে আজিমপুর অর্থাৎ মিরপুর রোড ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং প্রগতি সরণির কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে যেন কোনোভাবেই রিকশা চলাচল করতে না পারে, তার জন্য থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ছাড়াও রিকশা চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করতে মূল দায়িত্বে আছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের। সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে এসব সড়কের আশপাশে মাইকিং এবং গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সতর্কতা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী রিকশা এবং অন্যান্য অবৈধ যানবাহন না চালানোর জন্য বলা হয় সংশ্লিষ্টদের।
অন্য দিকে রিকশার চলাচল বন্ধ থাকলেও নগরবাসীদের চলাচলে বিঘœ হবে না বলে মনে করছেন ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি মেয়র। নগরীতে পর্যাপ্ত গণপরিবহণ যাত্রী পরিবহনে থাকবে বলে দাবি করেছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। তবে নাগরিক ও যাত্রীদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সুবিধার জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে হবে। হয়তো কারো কিছু অসুবিধা হবে। কিন্তু আমাদের দীর্ঘস্থায়ী চিন্তা করতে গেলে এই স্বল্পমেয়াদি বিষয়গুলোকে ওভারকাম করতে হবে। বড় কিছু পেতে গেলে আমাদের অবশ্যই কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হবে।
রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তে খুশি ঢাকাবাসী

আধুনিক গণপরিবহন বাস র্যাপিড ট্রানজিট চালু করতে হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার সব প্রধান সড়কে পর্যায়ক্রমে রিকশা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর প্রধান তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নাগরিকেরা। যদিও নাখোশ রিকশাচালকেরা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্তে না খেয়ে থাকতে হবে রিকশাচালকদের। তবে নগরবাসী বলছেন, এর ফলে রাজধানীর সড়কে যানজট কমবে। সেই সাথে সড়কে গতিও বাড়বে, কমবে দুর্ঘটনা। সহজ হবে মানুষের যাতায়াত।
গুলশান এলাকার বাসিন্দা রাতুল আহমেদ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বলেন, প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বিশ্বের কোনো উন্নত দেশের রাজধানীতে রিকশা চলে না। আমাদেরও এ পরিবর্তন আনতে হবে। রিকশা চললে বড় গাড়ি চলাচলে বাধা পড়ে। দুর্ঘটনাও ঘটে। অতএব, এটি একটি দারুণ সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ‘তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ প্রথম পদক্ষেপ। আমাদের ধীরে ধীরে সব প্রধান সড়কে রিকশা বন্ধ করতে হবে। যেহেতু সমন্বিত পরিবহন বা আধুনিক গণপরিবহন চালু করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু আছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আধুনিক গণপরিবহন চালু হবে। এর সুফল পেতে এখন থেকেই রিকশা চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরো ২ সড়কে বন্ধ হচ্ছে রিকশা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করার পর নতুন করে ডিএনসিসি এর আওতাধীন মিরপুর রোড এবং প্রগতি সরণিতে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে। এ দু’টি সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহন চালু করার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) এবং বাস মালিক সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি একই সাথে এসব সড়ক ও ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করার ঘোষণাও দেন।
মেয়র বলেন, রিকশা নিষিদ্ধ নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। প্রধান সড়কগুলোতে যান্ত্রিক যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা এবং অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রধান সড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে রিকশা এবং অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে পারে। জনগণের চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে ফুটপাথ ও সড়কে কোনো ধরনের মালামাল বা স্থাপনা থাকতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিএনসিসি অতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং গত ৭ জুলাই থেকে ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আতিকুল ইসলাম এ দু’টি সড়কে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে বাস বা মাইক্রোবাস চালু করার অনুরোধ জানান। পর্যায়ক্রমে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মালিবাগ পর্যন্ত চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে বলেও জানান মেয়র।
গত ১৯ জুন ডিটিসিএর এক বৈঠকে ‘ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন দূর বা বন্ধ, ফুটপাথ দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে’ একটি কমিটি গঠন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ কমিটিতে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করা হয়। অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়। এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ ধীরগতির রিকশা। এসব যানের অধিকাংশের অনুমোদন নেই। এ ছাড়া নগরীতে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন যান চলাচল করছে। যাতায়াতের সময় রাস্তার মাঝে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পেছনে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নগরীতে শৃঙ্খলা আনতে প্রাথমিকভাবে এ তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হলো। তিনি বলেন, এই সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধ হওয়ার পর নাগরিকদের যেন চলাচলে সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরিবহন মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পর্যাপ্ত বাস সেবার ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া ফুটপাথে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। একই সাথে ফুটপাথের ওপর থাকা ভবনের র্যাম্প অপসারণ করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কুড়িল, রামপুরা, মালিবাগ, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি গিয়ে দেখেছি রিকশা না থাকলেও তেমন দুর্ভোগ হচ্ছে না। কারণ, আমাদের যে ফুটপাথ সেটি ব্যবহার উপযোগী। আবার এ রুটগুলোতেও রয়েছে পর্যাপ্ত বাস। আজিমপুর থেকে নিউমার্কেটের মতো শর্ট ডিস্টেন্সেও মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় বিআরটিসির চক্রাকার বাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার নিউমার্কেট থেকে সাইন্স ল্যাব পর্যন্ত আরেকটা স্টপেজ আছে। এভাবেই শর্ট ডিস্টেঞ্জগুলোতেও চক্রাকার বাস রয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ফুটপাথ বেদখল রয়েছে যেগুলো মুক্ত করতে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান শুরু করেছেন। আমাদের শর্ট ডিস্টেন্সে হাঁটার অভ্যাস নেই। এটা অত্যন্ত জরুরি। হাঁটার অভ্যাস করতে হবে আমাদের। শরীর ভালো থাকবে। হ

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi