২১ নভেম্বর ২০১৯

শান্তিতে নোবেল জিতলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

শান্তিতে নোবেল জিতলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ - ছবি : সংগৃহীত

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও নোবেল পুরস্কারের এই ক্যাটাগরি নিয়েই সবার আগ্রহ ছিল। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শততম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে নরওয়ের নোবেল কমিটি।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩০১টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যার মধ্যে ২২৩ জন ব্যক্তি এবং বাকি ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে গত ৫০ বছর ধরে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার আগে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ

সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে সুইডিশ বংশোদ্ভূত দুনিয়া কাঁপানো জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গের নাম। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন, ব্রাজিলের আদিবাসী নেতা ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী রাওনি মেতুকতিরের নামও শোনা যায়।

ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জেতেন আবি আহমেদ। যুক্তরাজ্যের কিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আওল আলো বলেন, আবি এই পুরস্কারের যোগ্য। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধ নিরসনে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। ৪৩ বছর বয়সী আবি সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ সুদানের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিনিময়ের চুক্তি করেছেন। সে সময় সুদানে তিন দশক ধরে শাসন করা নেতা ওমর আল-বশিরের গ্রেফতারে রাজনৈতিকভাবে উত্তাল ছিল দেশটি।

সংঘাত নিরসনে এখনও ইথিওপিয়ায় অনেক কাজ বাকি। তবে আবি আহমেদের অনেক সংস্কারে দেশটির জনগণ নতুন করে আশার আলো দেখছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিন তিনি জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কাজ করেন। উঠিয়ে নেন মিডিয়া সেন্সরশিপ এবং বিরোধী দলের ওপর জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের বহিষ্কার করেছেন এবং ইথিওপিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। একইসাথে দেশটিতে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আবি আহমেদ।

এর আগে নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা ও বারাক ওবামার মতো ব্যক্তিত্বরা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 


আরো সংবাদ