২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইয়েমেনের বন্দর থেকে সরে যাচ্ছে হাউছিরা

ইয়েমেনের লোহিত সাগরের তিনটি বন্দর থেকে শনিবার হাউছি বিদ্রোহীরা সরে যেতে শুরু করেছে। এ খবর নিশ্চিত করেছে জাতিসঙ্ঘ। তবে সরকার সমর্থক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেছেন, বিদ্রোহীরা বন্দর ছাড়ার ভান করছে। 

বন্দরগুলো থেকে বিদ্রোহীদের সরে যাওয়া ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরান সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের মধ্যে গত বছরে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ। 

হুছিরা ওই বন্দরগুলো থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘হ্যাঁ। এটা শুরু হয়েছে।’ 

হাউছিদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বন্দরগুলোকে কোস্টগার্ডের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিদ্রোহীরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে এগুলো দখলে রেখেছিল। এএফপির এক আলোকচিত্রী সালিফ বন্দর থেকে হাউছি যোদ্ধাদের চলে যেতে দেখেছেন। তবে হোদাইদার গভর্নর আল হাসান তাহের বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ ও সরকারি পক্ষের কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই হাউছি যোদ্ধারা হোদাইদা, সালিফ ও রাস ঈসা বন্দর হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন খেলা খেলছে।’ 

তাহের আরো বলেন, হাউছি বিদ্রোহীরা এই বন্দরগুলোকে হস্তান্তরের পরও মার্কিন দূত মার্টিন ক্রিফিথস বিজয় চান। তিনি বলেন, আমরা এটা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। চুক্তির প্রতিটি শর্ত অবশ্যই পূর্ণ হতে হবে। বিশেষত হাউছিরা যাদের কাছে বন্দরগুলো হস্তান্তর করছে সেই সৈন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। 

হোদাইদা লাখো বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সরবরাহের প্রধান বন্দর। জাতিসঙ্ঘের রিডিপ্লয়েমেন্ট কমিটির প্রধান জেনারেল মাইকেল লোলেসগার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। বুধবার হোদাইদার ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ব্রিফ করা হবে। 

বিদ্রোহীদের সুপ্রিম রিভোল্যুশনারি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলি আল-হাউছি সরকারের সঙ্গে করা অস্ত্রবিরতি চুক্তি আবার কার্যকর করার জন্য স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় হাউছি যোদ্ধাদের ওই বন্দরগুলো থেকে প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছেন। 

সরকার ডিসেম্বরের চুক্তির আওতায় তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হোদাইদা নগরীর কয়েকটি এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে দেরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। চুক্তিতে দু’পক্ষেরই একই সাথে যোদ্ধা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। গত বছর সুইডেনে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিটিকে ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো সুযোগ বলে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। লড়াই প্রায় থেমে গেলেও উভয়পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সম্মুখভাগে যোদ্ধা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুত বিদ্রোহী প্রত্যাহার হয়েছে কি না তার যাচাইয়ে যৌথ নিরীক্ষার দাবি জানান।


আরো সংবাদ