২১ মে ২০১৯

ব্রাদারহুড সমর্থকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে মিসর

-

এবার মিসরের ইসলামপন্থী দল ইখওয়ানুল মুসলিমিন(মুসলিম ব্রাদারহুড) সমর্থনকের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে মিসরের সামরিক জান্তা সরকার। কায়রোর একটি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে এই কার্যক্রম শুরু করছে সেনা শাসক সিসির প্রশাসন।

মিসরের সরকার নিয়ন্ত্রীত সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আল আহরাম এক রিপোর্টে জানিয়েছে, মিসরের একটি আদালত সন্দেহভাজন ব্রাদারহুড সমর্থক ও সংগঠনটির তহবিল জোগানদাতাতের সম্পত্তি জব্দ করার অনুমোদন দিয়েছে। অবশ্য আদালতের এই রায়টি এসেছিল গত বছরের ৩ ডিসেম্বর। কিন্তু দেশটির কোন সংবাদমাধ্যম এই খবরটি প্রকাশ করেনি(মিডিয়া ব্ল্যাকআউট)।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ৬১৪ ব্যক্তি, ২৬৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩০টি হাসপাতালকে অভিযুক্ত করা হয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে জড়িত সংগঠনটিকে অর্থ সরবরাহের দায়ে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা সম্পত্তি সরকারি কোষাগারে জমা হবে বলেও আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে।

অবশ্য আদালতের এই রায় চূড়ান্ত নয়, এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে। কিন্তু মিসরের বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে যেভাবে প্রশাসন ও আদালতকে চালিত করা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

২০১৩ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসির সরকারকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান আবদুল ফাতাহ সিসি। এরপর দেশটির সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। দলটির নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থনদের ওপর চলে ব্যাপক দমন-পীড়ন।

হাজারো নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম, জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়। এরপর বিভিন্ন আদালতের কয়েকটি রায়েও সংগঠনটির সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আদালত ১৫৮৯ জনের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়। এছাড়াও ওই রায়ে বলা হয় ১১৮ট কোম্পানি, হাসপাতাল ও নতুন প্রকল্প জব্দ করার কথা।


আরো সংবাদ

agario agario - agario