২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কঙ্গোর নির্বাচনের ফল ঘোষণা না করতে আফ্রিকান ইউনিয়নের আহ্বান

রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ
ফায়ুলুর সমর্থকদের বিক্ষোভ - ছবি : দ্য গার্ডিয়ান

গত মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান কঙ্গোর বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। গত সপ্তাহে প্রকাশ হওয়া নির্বাচনের অন্তর্বর্তীকালীন ফলে ‘মারাত্মক সন্দেহের’ কথা বলছে সংস্থাটি।

আঞ্চলিক সংস্থাটির এ ধরনের উদ্যোগের ফলে কঙ্গোতে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। ব্যাহত হতে পারে ১৯৬০ সালে স্বাধীন হওয়ার পর বৃহৎ এ দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় হস্তান্তর।

বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে আফ্রিকান ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইথিওপিয়ার রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন ফলাফলে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ফলশ্রুতিতে সংস্থাটি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কঙ্গোর রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসনে একটি ‘উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল’ পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশটির মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করা ক্যাথলিক চার্চও এ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্বাধীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইএনআই) প্রধান কর্নিলে নাঙ্গা বলেন, ‘৩৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পাওয়ায় ফেলিক্স সিসেকেদিকে প্রাথমিকভাবে কঙ্গোর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হল।’

২০১৬ সালে প্রথমে এ নির্বাচনের তারিখ থাকলেও তা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই বছর পিছিয়ে দেয়া হয়। এতে বিরোধীপক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। আর সে উত্তেজনা দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে কয়েকশ’ বিক্ষোভকারীকে। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেও পরে তা আরো এক সপ্তাহ পিছিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর করা হয়।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংসতা হয়। বিরোধী দল সরকারি দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও আনে।

আল জাজিরার খবরে প্রকাশ, ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় দ্বিতীয় হয়েছে আরেক বিরোধী দলের নেতা মার্টিন ফায়ুলু। আর সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী ইমানুয়েল সামাদানি শাদারির অবস্থান তৃতীয়।

প্রচুর খনিসমৃদ্ধ আফ্রিকান এ দেশটি ১৭ বছর ধরে শাসন করে আসছে জোসেফ কাবিলা। এ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না।

১৯৬০ সালে বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এটাই হবে দেশটির গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রথম ঘটনা।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme