১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উদ্ধোধনের অপেক্ষায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ

-

চলতি বছরের শেষ দিকে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ ‘আলজেরিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ’। ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন এ মসজিদে। রোববার আলজেরিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ ইসা এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত আলমুজাহিদ পত্রিকার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ধর্মমন্ত্রী জানান, আকারের দিক থেকে মসজিদটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ। অর্থাৎ মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর পর বিশ্বের সর্ববৃহৎ মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে আলজেরিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ মসজিদের যাবতীয় নির্মাণকাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে, ২০১৯-এর শুরুতে উদ্বোধন করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।

মসজিদটি রাজধানী আলজিয়ার্সের মোহাম্মদিয়া এলাকায় অবস্থিত। মসজিদটি ২ হাজার বর্গমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এর মিনারের উচ্চতা প্রায় ২৬৫ মিটার। এর রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড তিন স্তরের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা যার আয়তন হবে ১ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার। এতে ছয় হাজারের বেশি গাড়ি পার্ক করা যাবে। আরো রয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আলাদা দুটি হল। একটি ১৬ হাজার বর্গমিটারের ১৫০০ আসন সমৃদ্ধ। অন্যটি ১০০ বর্গমিটার ও ৩০০ আসনবিশিষ্ট। মসজিদে থাকবে ২১ হাজার ৮০০ বর্গমিটারের সুবিশাল ও সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। একসঙ্গে দুই হাজার পাঠক এখানে বই পড়তে পারবেন। আলজেরিয়া গ্রান্ড মসজিদ কমপ্লেক্স প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২ বিলিয়ন ডলার। এর নির্মাণসংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছে একটি চীনা কোম্পানি।

প্রসঙ্গত সুদানের পরই আফ্রিকা মহাদেশের বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র আলজেরিয়া। এর ৪০.৬১ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় শতভাগ মুসলিম।

 

আরো দেখুন : কিরগিজস্তানে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন করলেন এরদোগান

মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজিস্তান সফরে গিয়ে দেশটির সবচেয়ে বড় মসজিদ উদ্বোধন করলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। রাজধানী বিশকেকে নির্মিত মসজিদটির নাম ইমাম সেরাহসি মসজিদ। ৭ জাহার বর্গমিটার আয়তনের মসজিদটিতে এক সাথে ৩০ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে।

শুধু কিরগিজিস্তান নয়, মধ্য এশিয়া অঞ্চলের মধ্যেই এটি সবচেয়ে বড় মসজিদ। এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিলো মধ্য এশিয়ার দেশগুলো। দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসনের ফলে কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান,উজবেকিস্তানের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা অনেকটাই কমে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও দেশগুলোর রাজনীতি এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সোভিয়েত প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি। ফলে ইসলাম চর্চা কম এই দেশগুলোতে।

তাছাড়াও মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় কিরগিজস্তানে ইসলামের আগমন ঘটেছে অনেক দেরিতে এবং সোভিয়েত যুগে এই দেশটির মুসলিমরা অন্যদের চেয়ে বেশি নির্যাতন সহ্য করেছে। সোভিয়েত যুগের পতনের পর ধীরে ধীরে শুরু হয় ধর্মীয় চর্চা।

তুর্কি সরকারের অধীন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন এই প্রতিষ্ঠানটি। ২০১২ সালে ৩৫ একর জমির ওপর শুরু হয় মসজিদটির নির্মাণ কাজ।

একাদশ শতকের বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ইমাম সেরাহসির নামে নামকরণ করা হয়েছে সেটি। গত রোববার মসজিদটি উদ্বোধন করেন সফরত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সোরোনবে জিনাবেকভসহ অন্যার্ন কর্মকর্তারা।

নামাজের জায়গা ছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সটির ভেতরে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাসরুম, সম্মেলন কক্ষ, ডাইনিং রুম ও বিশাল পার্কিং এরিয়া। চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার, যার উচ্চতা প্রতিটির ৬৮ মিটার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন, ‘দেশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই মুসলিম উম্মাহ’। তিনি সারাবিশ্বের মুসলিমদের ঐক্য, সংহতি ও সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। গত সপ্তাহে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কিরগিজস্তানে যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি।


আরো সংবাদ