১৫ নভেম্বর ২০১৮

পুতিন এবার রিয়েলিটি শো তারকা

দক্ষিণ সাইবেরিয়ায় অবকাশ যাপনের সময় পাহাড়ে চড়েন ভ্লাদিমির পুতিন - ছবি : সংগ্রহ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে একটি রিয়েলিটি শো শুরু হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। প্রেসিডেন্টের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তার ধারা পাল্টাতে এই অনুষ্ঠান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

‘মস্কো ক্রেমলিন পুতিন’ নামের অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব গত রোববার প্রচারিত হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় রোশিয়া-১ টিভি চ্যানেলে। এই পর্বে
দেখানো হয়েছে এর আগের এক সপ্তাহে ভ্লাদিমির পুতিনের জীবনযাপন। এসবের মধ্যে ছিলো সোচিতে ছাত্রদের সাথে তার বৈঠক ও সাইবেরিয়ায় অবকাশ যাপন। অনুষ্ঠানে পুতিনের পেনশন নীতিমালা নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বিতর্কীত এই পেনশন  নীতিমালা নিয়েই পুতিনের জনপ্রিয়তা অনেকাংশে কমেছে।

প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন রোববারে প্রচারিত অনুষ্ঠানটিতে মূলত পুতিনের এক সপ্তাহের কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশগুলো তুলে ধরা হবে।
পুতিনকে শক্তিশালী, উদ্যমী ও মনোযোগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হবে।

পর্বের একটি অংশে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভকে বলতে শোনা যায়, ‘পুতিন শুধুমাত্র শিশুদেরই ভালোবাসেন তাই নয়, তিনি
সাধারণভাবে সব লোককেই ভালোবাসেন। তিনি দারুণ একজন মানুষ।’ পেসকভ আরো বলেন, ৬৫ বছর বয়সী নেতা প্রতিদিন ৯০ মিনিট অনুশীলন করেন। যা থেকে বোঝা যায় পুতিনের শারিরীকি সক্ষমতা(ফিটনেস) ছিলো এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয়।

সাইবেরিয়ায় ছুটি কাটানোর সময় তার পাহাড়ে চড়া, নৌকা চালানো নিয়ে এক এক রাশিয়ান নাগরিক বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না যে, কিভাবে এই কঠিন শিডিউল তিনি মেনে চলেন। শারীরীকভাবেও এটি বেশ কঠিন’।

মুখপাত্র পেসকভ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কোম্পানির উদ্যোগে, এখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের কোন ভুমিকা নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের সবার জানা উচিত। সঠিকভাবে ও কোন ব্যত্যয় ছাড়া সেটি তুলে ধরা দরকার’।

সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের জনপ্রিয়তা গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমে গেছে। ৮৯ শতাংশ রুশ পুতিনের পেনশন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। আর পুতিনের জনপ্রিয়তা মে মাসে ছিলো ৭৯ শতাংশ যা জুলাইতে এসে দাড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে।

আরো পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নবায়নের সিদ্ধান্ত
২৮ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো ছয় মাসের জন্য নবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইইউ’র স্থায়ী প্রতিনিধিরা সোমবার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করবেন এবং এরপর ইউরোপীয় কাউন্সিল সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করবে।

২০১৪ সালের গোড়ার দিকে ইউক্রেনের তৎকালীন প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়ায় সহিংসতার জের ধরে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে দেশটির জনগণ রাশিয়ার সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের জের ধরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রি জারি করে ক্রিমিয়াকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভূক্ত করেন।

মস্কোর ওই সিদ্ধান্তের জের ধরে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন  রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইইউ’র নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়া শুরু থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইইউ’র বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। মস্কো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দিয়েছে।


আরো সংবাদ