২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মিসরে জেগেছে আশার আলো, সিসির বিরুদ্ধে আদালতের রায়

মিসরে জেগেছে আশার আলো, সিসির বিরুদ্ধে আদালতের রায় - সংগৃহীত

মিসরে আপিল আদালতের রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিসহ দেড় হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে চাওয়া সরকারি তালিকার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। মুরসি ও ১৫৩৭ জন মিসরীয়’র করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রায় দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। 

২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানে হোসনি মোবারকের পতনের পর ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত  নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথ নেন। আবারো তার পক্ষে-বিপক্ষে মানুষ রাস্তায় নামলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সেই অস্থিরতার মধ্যে সেনাপ্রধান ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। একপর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে বন্দি করা হয়। দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। বর্তমানে তোরা নামের এক অখ্যাত কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক এ মিসরীয় প্রেসিডেন্ট।

ওই তালিকায় মুরসি ছাড়াও বিখ্যাত ফুটবল তারকা মোহামেদ আবু ত্রেইকাও ছিলেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভূক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর প্রতিবাদে আদালতে আপিল করেছিলেন মুরসি।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে ২০১২ সালে বিক্ষোভকারীদের নির্যাতন ও গ্রেফতারের আদেশ দেয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে মুরসিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কাতারকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের অভিযোগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর দেওয়া হয় আরো ২৫ বছরের কারাদণ্ড। বিচার বিভাগ অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আরো তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে।

ডিটেনশন রিভিউ প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরসিকে যে অবস্থায় রাখা হয়েছে তা মিসর ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্যাতনের শামিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে নির্যাতনকারী হিসেবে দায়ী করা যেতে পারে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি নন, মুরসি : এরদোগান 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, তিনি মিসরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ মুরসিকে স্বীকার করেন, আল-সিসিকে নয়।

 বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ত্রিপক্ষীয় প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান মলাদেন ইভানিকের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, তিনি শুরু থেকেই মিসরের সামরিক অভ্যুত্থানকে অনুমোদন করেননি।

তিনি বলেন, মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট বিবেচনা করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘে আমি তার সাথে এক টেবিলে বসিনি। তা করলে আমি নিজের সাথেই গাদ্দারি করতাম। ’

সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বসনিয়া হার্জেগোভিনায় ৭০০ প্রকল্পে সহায়তার কথা ঘোষণা করেন।
সম্প্রতি জার্মান পার্লামেন্টের স্পিকার নরবার্ট ল্যাম্বার্ট জানিয়েছেন, আগামী মাসে বার্লিনে আল-সিসির সফরের সময় তিনি তার সাথে সাক্ষাত করবেন না। মিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জেনারেল আল-সিসি ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে তুরস্ক ও মিসরের মধ্যকার সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme