১৭ নভেম্বর ২০১৮

লোক ভাড়া করে শোক পালন (ভিডিও)

টাকার বিনিময়ে মৃতব্যক্তির জন্য কাঁদেন এই নারীরা - ছবি : সংগ্রহ

কেউ মারা গেলে তার স্বজনরা শোকে কান্না করবে সেটি স্বাভাবিক বিষয়। শোকের মধ্যেই স্বজনদের আয়োজন করতে হয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের। মৃত ব্যক্তিকে তার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী সমাহিত করা হয়। আফ্রিকার দেশ ঘানার অনেক অঞ্চলে মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য বা সমাহিত করার অনুষ্ঠানটিতে বড় আয়োজন করার এক ধরনের রীতি রয়েছে।

মৃত ব্যক্তিকে সুন্দর আয়োজন করে বিদায় দিতে পারলে তার পরলোকে যাত্রা শুভ হবে বলেই মনে করেন তাদের অনেকে। তাই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে মৃতের স্বজনরা তার শোকে কাঁদবে সেটিই স্বাভাবিক; কিন্তু অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সেখানে কেউ কেউ লোক ভাড়া করে মৃতের জন্য কাঁদার আয়োজন করেন। অনুষ্ঠান সুন্দর করার একটি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হয়তো এটি করা হয়। আর জন্য ভাড়ায় লোক পাওয়া যায় সেখানে, যাদের কাজ টাকার বিনিময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা।

বিবিসি আফ্রিকা সার্ভিস সম্প্রতি এমন একজনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে, যার পেশাই হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য টাকার বিনিময়ে কাঁদা। অ্যামি দোকলি নামের ওই নারী বিবিসিকে বলেন, ‘অনেক লোকই জানেনা কিভাবে কাঁদতে হয়। স্বজন হারানোর পর কিভাবে বিলাপ করতে হয় ও কাঁদতে হয় তা অনেকেই জানে না। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে কাঁদি আমি। লোকজন আমার কাছে আসে তাদের স্বজনের মৃত্যুর পর কাঁদার প্রস্তাব নিয়ে। আমাকে ভাড়া করে নিয়ে যায় তারা।’

দোকলি একাই নন। তার রয়েছে একটি দল, যে দলের সব সদস্য নারী। তারা দলবেঁধে টাকার বিনিময়ে মৃতের বাড়িতে গিয়ে কান্না করেন। দোকলি বলেন, ‘এই দলের আমরা সবাই বিধবা। স্বামী হারানোর পর আমরা একসাথে সিদ্ধান্ত নেই, যারা স্বজন হারানোর পর কাঁদতে জানে না তাদের জন্য কিছু করার। এই পরিকল্পনা থেকেই আমার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে কাঁদি।’

এই নারী মনে করেন তারা না থাকলে শেষকৃত্যানুষ্ঠান সফল হতো না। বলেন, ‘আমরা না থাকলে তাদের অসুবিধা হতো।’
কী রকম মজুরি পান কাঁদার বিনিময়ে সে বিষয়ে দোকলি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয় অনেক বড় আয়োজনে। কিছু অনুষ্ঠান হয় স্বল্প পরিসরে। দাওয়াত পেলে আমরা সেখানে যাই। অনুষ্ঠান কত বড় সেটা দেখে আমরা মজুরি নির্ধারণ করি এবং সে অনুযায়ী পারফর্ম করি। স্বাভাবিক বিষয় যে, আমরা সবাই একদিন মারা যাবে’।

দেখুন ভাড়া করে আনা লোকদের কান্নার ভিডিও

 

আরো পড়ুন : ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লিবিয়া, হয়েছে দখলমুক্ত
যুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়ার দেরনা অঞ্চল আইএসের দখল থেকে পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সেনা কমান্ডার খলিফা হাফতার বলেন, বৃহস্পতিবার লিবীয় সেনারা সন্ত্রাসীদের অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় বিমান হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় তারা।

এলাকাটি সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ ঘাটি ছিল বলে জানানো হয়। ২০১১ সাল দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেরনা সন্ত্রাসীদের দখলে ছিল।

লিবিয়া সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ করবে তিউনিসিয়া

সন্ত্রাসী হুমকি ঠেকাতে লিবিয়ার সাথে সীমান্তে একটি প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তিউনিসিয়া। উপকূল থেকে ভূখণ্ডের ভেতরের দিকে ১৬০ কিলোমিটার জুড়ে তৈরি করা হবে এ প্রাচীর। এ বছর শেষ নাগাদ এর কাজ শেষ হবে বলে রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানিয়েছেন তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাবিব এসিদ।

সম্প্রতি তিউনিসিয়ার সুস শহরে পর্যটন অবকাশ কেন্দ্রের সৈকতে হামলা চালিয়ে ৩৮ জনকে হত্যাকারী সেই বন্দুকধারী লিবিয়া থেকে জঙ্গি হামলার প্রশিণ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। গত মাসে এ হামলার পর তিউনিসিয়া জরুরি অবস্থা জারি করে।

তিউনিসিয়ার সেনাবাহিনী প্রাচীরটি তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাচীরটির কয়েকটি জায়গায় থাকবে নজরদারি কেন্দ্র। সুস শহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্তৃপ এরই মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

হোটেল ও সৈকতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর এক হাজার ৪০০-এর বেশি সশস্ত্র কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এসিদ বিবিসিকে বলেছেন, সুস শহরে হামলাকারী সাইফুদ্দিন রেজগুই খুব সম্ভবত আনসার আল-শারিয়া গ্রুপের সাথে লিবিয়ায় প্রশিণ নিয়েছিলেন।


আরো সংবাদ