২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধ

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধ - সংগৃহীত

ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। তবে তা শুধু ১ ঘণ্টার জন্য। হাই স্কুলের ডিপ্লোমা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ।  পরীক্ষা চলাকালে এক ঘণ্টা করে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখবে দেশটি।

 মোবাইল এবং ফিক্সড লাইন, দুই মাধ্যমেই বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট সেবা। ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত। আর এ ক’দিনের প্রতিদিনই এক ঘণ্টা করে ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

বিগত বছরগুলোতে দেশটির পরীক্ষা শুরুর আগে ও পরীক্ষা চলাকালে ব্যাপকহারে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর এ বছর পরীক্ষায় এ ব্যবস্থা নেয়া হলো।

এর আগে গত বছর পরীক্ষার সময় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে সে ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকর হয়নি।

আলজেরিয়ার শিক্ষামন্ত্রী নৌরিয়া বেনঘাবরিত আলজেরিয়ান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, পরীক্ষার পুরো সময়টাতে সারা দেশে ফেসবুক বন্ধ থাকবে।

ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পাশাপাশি এবার অন্য ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। যেমন ২ হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রে মেটাল ডিটেকটর বসানো হয়েছে যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে পারে। এ ছাড়া যেখানে প্রশ্ন ছাপা হচ্ছে সেখানে ক্যামেরা বসানো হয়েছে ও মোবাইল ফোন জ্যামার লাগানো হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস রোধে টিআইবির ৯ সুপারিশ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন টিআইবির রিসার্চ পরিচালক রফিকুল হাসান। আজ সারা দেশে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষাকে সামনে রেখে জনসচেতনতার অংশ হিসেবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর আয়োজন করে। 
মানবন্ধনে রফিকুল হাসান বলেন, আইনগতভাবে অনেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও যে মাত্রায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে মাত্রায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত নেই। অধিকাংশ সময়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগে শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী পর্যায়ের লোকদের শাস্তির উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। অথচ বাস্তবে ফাঁস-প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টজনেরা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থেকে যায়। ফলে প্রশ্নফাঁস রোধে তা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তিনি বলেন, প্রশ্ন প্রণয়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সময়সাপেক্ষতা এবং এর সাথে অনেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কারণে প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার পরিবর্তে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র সংগ্রহের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেনÑ যা আমাদের সামাজিক অবক্ষয়েরই নামান্তর।

মানববন্ধন থেকে প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ৯টি সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। সুপারিশগুলো হলোÑ পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) (সংশোধন) আইন, ১৯৯২-এর ৪ ধারা পুনরায় সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা আগের মতো সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান প্রণয়ন এবং নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধকরণে সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২-এর অস্পষ্টতা দূর করা এবং কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা; প্রশ্নফাঁস রোধ ও সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গাইডবইয়ের আদলে প্রকাশিত সহায়ক গ্রন্থাবলি বন্ধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা; তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তদারকি বাড়ানো ও প্রচলিত আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা; ধাপ কমিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি পরীক্ষামূলক ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তীকালে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা; প্রশ্নফাঁস নিয়ে গঠিত যেকোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; শিক্ষা ও পরীক্ষাপদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনাগত যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা; প্রশ্নফাঁস রোধে বহুনির্বাচনী প্রশ্নব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা; পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রের একাধিক সেট রাখা।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme