১৮ নভেম্বর ২০১৮
আদালতের নির্দেশ মানছে না বিসিক

২৪৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী আত্তীকরণে অনিয়ম

-

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মহিলা শিল্পোদ্যক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি (উইডিপি) প্রকল্পে আত্তীকরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনিয়মের মাধ্যমে ২৪৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজস্বে আত্তীকরণ করা হয়েছে। মহাহিসাব নিরীক্ষা দফতর (সিএজি) কর্তৃক বাণিজ্যিক অডিট রিপোর্টে আপত্তি জানিয়ে জবাব চাইলেও কোনো জবাব দিচ্ছে না বিসিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে মহিলা শিল্পোদ্যেক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি (উইডিপি) প্রকল্পটি চালু করে বিসিক। পরে ২০০৪ সালে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বেকার হয়ে পড়েন প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। ওই বছর চাকরি ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেন তারা। আদালত শুনানি শেষে ২০১৩ সালে তাদের চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে আরেকটি মামলায় আগের মামলা চলাকালীন আর্থিক সুবিধা দাবি করে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন হলে বিসিক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশন সিভিল রিভিও (পিটিশন নং ১৩২/২০১৫) দায়ের করেন। আপিলেট ডিভিশন পূর্বোক্ত মামলার রায় এবং আদেশ পর্যালোচনা করে প্রকল্পের পদোন্নতি পদ ধরে আত্তীকরণ এবং বেতন ভাতাদি প্রদানের আদেশ বাতিল ঘোষণা করেন।
আদালতের এ আদেশ অমান্য করে বিসিক প্রধান কার্যালয়ের কয়েকটি আদেশের মাধ্যমে ২৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সমাপ্ত উইডিপি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতের শূন্যপদের বিপরীতে প্রকল্পে থাকাকালীন পদোন্নতিকৃত পদে আত্তীকরণ করা হয় এবং প্রকল্পের যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা ধরে বেতন ও ভাতাদি প্রদান করা হয়। 
অথচ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখার মাধ্যমে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ করা হলে ভূতাপেক্ষা তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনার কোনো সুযোগ নেই এবং রাজস্ব খাতে প্রকল্পের বিজ্ঞাপিত পদে আত্তীকরণের আদেশ জারির তারিখ থেকে নিয়মিতকরণের তারিখ বলে গণ্য হবে মর্মে নির্দেশনা রয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের স¦শাসিত সংস্থা বিসিক শাখার এক স্মারক মোতাবেক প্রকল্পে যোগদানের তারিখ নয়, রাজস্ব খাতে প্রকল্পের বিজ্ঞাপিত পদে আত্তীকরণ করে যোগদানের তারিখ থেতে নিয়মিতকরণের তারিখ গণনা করতে হবে মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। 
এর পরও সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনের রায়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে বিসিক শাখার নির্দেশনা মোতাবেক ২৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রকল্পের বিজ্ঞাপিত পদে আত্তীকরণ না করে প্রকল্পে যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনা করেনি। আবার একইভাবে ৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রকল্পের মূলপদের সমমানের পদে রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ করেনি। বরং তাদের কাছে হতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে প্রকল্পের সময় থেকে চাকরিকাল ও পদোন্নতি দিয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অমান্য করছে।
এ দিকে গত ২৯ মার্চ বিসিক পরিচালক পর্ষদের ৭৩৭তম সভায় আদালতের রায়কে কোনো রকম তোয়াক্কা না করে উইডিপির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সুবিধা দেয়ার জন্য ১ জুলাই ২০০৪ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০০৭ পর্যন্ত সময়ে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের জন্য নতুন করে পাঁয়তারা করছে। এ জন্য ওই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভুয়া এসিআরো নেয়া শুরু করছে।
বিসিক কর্মকর্তারা জানান, এ প্রকল্পকে নিয়ে বিসিকে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে যারা প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও চাকরির ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারছে না।
সিন্ডিকেটের অন্যতম মনোয়ারা খাতুন উইডিপি প্রকল্পে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নেন। যদিও প্রকল্পকালীন সময়ে পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। চারুকলা বিষয়ে কোনো ডিগ্রি না থাকলেও তিনি প্রধান নকশাবিদের দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে তিনি অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে আরো ৩৯ জন সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা: ইফতিখারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে যোগাযোগের বিষয় সম্পর্কে তিনি জানতে চান। প্রতিবেদক যোগাযোগের বিষয় জানালে তিনি নিজের ব্যস্ততার কথা বলে পরে যোগাযোগ করতে বলেন।


আরো সংবাদ