২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নভেম্বরের মধ্যে নিয়োগ হবে সাত হাজার নতুন ডাক্তার  

নভেম্বরের মধ্যে নিয়োগ হবে সাত হাজার নতুন ডাক্তার   - সংগৃহীত

আরো সাত হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে এই সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হবে। নিয়োগকৃত এসব চিকিৎসককে গ্রামে গিয়ে তিন বছর চিকিৎসা দিতে হবে এবং তিনবছর পর তারা বদলি হতে পারবেন। আগামী দিনগুলোকে নতুন চিকিৎসকদের এ শর্তেই নিয়োগ দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ন্যাশনাল টিউবারকিউলোসিস প্রিভেলেন্স সার্ভে বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা চিকিৎসক হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই কৃষকের সন্তান। তাদের প্রথম কাজ হবে গ্রামের মানুষের সেবা করা। গ্রামে গিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

আগের চিকিৎসক নিয়োগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর ছয় হাজার চিকিৎসক দিয়েছেন। তাদের দু’বছর গ্রামে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামের মানুষ চিকিৎসা না দিয়ে তাদের অনেকে চলে আসে।

দেশের তিন হাজার চিকিৎসক কাজ না করেই বেতন নেয় উলেøখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কাজ না করেই তিন হাজার চিকিৎসক নিচ্ছে এই খবর পাওয়ার পর আমি তাদের বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা আর বেতন নিতে আসেনা। কারণ বেতন নিতে আসলেই তারা কোথায় কোথায় কাজ করছে সে তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে।

যক্ষার নতুন সমীক্ষা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে যক্ষাকে ৯০ ভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যক্ষা নির্মূল করব। যক্ষার জীবানু শনাক্ত করার জন্য জিন এক্সপার্ট মেশিন (বিশেষ ধরনের মেশিন যা দিয়ে নির্ভুলভাবে যক্ষা শনাক্ত করা যায়) সারাদেশের সকল হাসপাতালে দেয়ার ব্যবস্থা করব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর (যক্ষা, কুষ্ঠ) অধ্যাপক ডা. সামিউল আলম।

যক্ষার নতুন সমীক্ষা নিয়ে বক্তব রাখেন আইইডিসিআর’র সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বাচপি সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. বারডেন জাং রানা, নাটাবের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু।

জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা যক্ষা কাঙ্খিত মাত্রায় কমিয়ে আনব। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশে কাজ করছে। আশা করছি, শিগগরই বাংলাদেশ যক্ষার মতো পুরণো এই রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।
অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ যক্ষা আক্রান্ত ১০ দেশের একটি। আমরা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ সংখ্যক শিশু যক্ষা আক্রান্ত শনাক্ত করতে পেরেছি। যক্ষা নির্মুলে প্রতিরোধি ভ্যাক্সিন পাওয়া গেলে ভাল হত।

নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি লাখে ২৮৭ জন যক্ষা আক্রান্ত পাওয়া গেছে। সমীক্ষায় ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মানুষকে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে ৯২ শতাংশ। গ্রামের চেয়ে শহুরে মানুষের মধ্যে যক্ষা আক্রান্ত বেশি পাওয়া গেছে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme