২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নতুন ডিসি পেলো ১১ জেলা

নতুন ডিসি পেলো ১১ জেলা - সংগৃহীত

 

১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ফেনী, খাগড়াছড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, শেরপুর, খুলনা, সুনামগঞ্জ ও বান্দরবানে নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। আর এই ১১ জেলার বর্তমান ডিসিদের সরকারের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। জেলা পর্যায়ে ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। জাতীয় নির্বাচনের ছয় মাসেরও কম সময় আগে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই রদবদল আনল সরকার।

নতুন ডিসিদের মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তন্ময় দাসকে নোয়াখালীতে, দুদক কমিশনারের একান্ত সচিব এস এম ফেরদৌসকে মানিকগঞ্জে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানকে ফেনীতে, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডেজ এম নুরুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনকে নীলফামারীতে, আইএমইডির উপ-সচিব আনার কলি মাহাবুবকে শেরপুরে, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে খুলনায়, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে সুনামগঞ্জে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম বান্দরবানের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

বান্দারবানের ডিসি মোঃ আসলাম হোসেনকে কুষ্টিয়ার ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার ডিসি মো. জহির রায়হানকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক, খাগড়াছড়ির ডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো. মাহমুদুল হাসানকে রাজউকের পরিচালক, নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম, শেরপুরের ডিসি মল্লিক আনোয়ার হোসেনকে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক এবং সুনামগঞ্জের ডিসি মো. সাবিরুল ইসলামকে রাজউকের পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

নোয়াখালীর ডিসি মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব, মানিকগঞ্জের ডিসি নাজমুস সাদাত সেলিমকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ফেনীর ডিসি মনোজ কুমার রায়কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপ-সচিব, খুলনার ডিসি মো. আমিন উল আহসানকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব পদে বদলি করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কালেক্টর হিসেবে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো দেখে থাকেন ডিসি। এ ছাড়া নির্বাচিত সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ও চলমান সব উন্নয়নমূলক কাজে জেলা প্রশাসক তদারকি করে থাকেন।

রংপুরের নতুন বিভাগীয় কমিশনার

এ ছাড়া দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রাম চন্দ্র দাসকে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : আবেদন করা যাবে ১৫ দিন পর্যন্তরোববার থেকে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী রোববার (৫ আগষ্ট) থেকে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত সফটওয়ারের মাধ্যমে অন-লাইনে আবেদন করতে হবে। ১৫ দিন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাছাই-বাছাই কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-তে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে কমিটির আহ্বায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ( বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, রবিবার থেকে অন-লাইনে আবেদন করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এমপিওভূক্তির জন্য তৈরী করা একটি সফটওয়্যারের লিংক দেয়া থাকবে। তাতে আবেদনের সব নির্দেশনা দেয়া থাকবে। অনলাইনে আবেদন ফরমটি পূরণ করে)সেখানেই সাবমিট(দাখিল) করতে হবে। কাগজের কোন আবেদন মন্ত্রনালয়ে বা জেলা শিক্ষা অফিসে গ্রহণ করা হবে না। অন-লাইনেই আবেদন করতে হবে ১৫দিনের মধ্যে।


মন্ত্রণালয় থেকে ইতপূর্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গত ১৪ জুন এমপিও নীতিমালা ২০১৮ বা জনবল কাঠামোর অনুযায়ী এমপিও প্রত্যাশিতদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৫ দিন শেষে প্রতিষ্ঠানের তালিকা মন্ত্রীর কাছে জমা দিবে যাচাই-বাছাই কমিটি। যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা উপজেলা ও সংসদীয় আসন ওয়ারী করে প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কমিটিকে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ও স্নাতক (পাস)- এই পাঁচ স্তরের এপিওভুক্তির জন্য আলাদা আবেদন করা যাবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক বা একাধিক স্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনের যোগ্যতার অন্যতম শর্ত পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিগত তিন শিক্ষা বর্ষের পাবলিক পরীক্ষার (২০১৫, ১৬ ও ১৭ সালের) পাসের হারের গড় করে মান নির্ধারণ করা হবে। এমপিও প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকায় সিটে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা/উপজেলায় বর্তমান এমপিও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্যতার সংখ্যা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ((http://shed.portal.gov.bd) এ on line MPO ) এর লিংক দেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে এ সফটওয়ারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সফটওয়ারটি ঢুকলেই তিনটি নির্দেশিকা আইকন (Icon) দেখা যাবে। তাতে আবেদনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া থাকবে। এমপিও প্রত্যাশিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নির্দেশিনা অনুসরণ করে সহজেই অন-লাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

আবেদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তথা শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হারসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যানবেইস ও শিক্ষাবোর্ডের ডাটবেইজ থেকে ইমপুর্ট করা হবে। এ সকল তথ্যের ভিত্তিতে এমপিও নীতিমালার শর্তানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে।

সূত্র আরও জানায়, সফটওয়্যারটি ওরাকল ডাটাবেস (Oracle Databace) সমৃদ্ধ রেড হার্ট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স (Red Hat Enterprise linux) অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পারিচালিত হবে। অ্যাপাসি কনফিগারেশনসহ (apache configration) জাভা স্কিপ্ট লাইব্রেরি ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে জমাকৃত যাবতীয় তথ্য ব্যানবেইসের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। ব্যানবেইসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাটা সিকিউরিটি নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। এর পরের বছরের জাতীয় বাজেটেও এখাতের জন্য কোন বরাদ্দ রাখা ছিল না। এ বছর(২০১৮-১৯) অর্থ বছরের বাজেটেও এমপিও খাতের জন্য কোন বরাদ্দ রাখা হয় নি। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে।

এরই প্রতিবাদে গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগেও প্রতি বছর বাজেটের আগে-পরে শিক্ষকরা এমপিওভূক্তির দাবীতে কর্মসূচী পালন করেছেন।

সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন এমপিওভূক্তির আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। গত ৮/৯ বছর পর্যন্ত বন্ধ থাকায় এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সরকার দরীয় এমপিদের মধ্যেও। তবে, নতুন এমপিওভূক্তির জন্য এখন নানা শর্ত ও নীতিমালার দোহাই দিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন করে জারী করা জনবল কাঠামোরও বিরোধতিা করছে সব শিক্ষক সংগঠন।

এদিকে, এমপিওভ’ক্তির আবেদন গ্রহনের আগেই শিক্ষা মন্ত্রণলয় কেন্দ্রীক প্রতারক চক্রও নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে, গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে সবাইকে।


আরো সংবাদ