২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার সুপারিশ

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার সুপারিশ। -

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এছাড়া অবসরের বয়সসীমাও ৬৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটি সূত্রে জানা যায়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বেশকিছু যুক্তিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

কমিটি বলেন, উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোন সীমারেখা নির্দিষ্ট করেনি। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০ বছর, শ্রীলংকায় ৪৫ বছর, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫ বছর, ইতালিতে ৩৫ বছর, ফ্রান্সে ৪০ বছর। অনেক দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত। বাংলাদেশে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আরো দুই বছর বেশি। কিন্ত প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর হয়নি।

কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক ও মো. আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন ছিল। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে এ সুপারিশ গ্রহণের পাশাপাশি অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল করে আগের মতো স্থানীয়ভাবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলে দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের সুযোগ থাকে। তাই এ পদ্ধতি বাতিল করার সুপারিশ করা হয়। নিবন্ধনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করার সুপারিশও করে কমিটি।

দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে উপজেলার আকার, ইউনিয়ন সংখ্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিবেচনা করে বাস্তবতার ভিত্তিতে স্কুল কলেজ সরকারিকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতরে ‘বিশেষ অনুরোধে’ ৪ জন সচিব, ৩৬ জন অতিরিক্ত সচিব, ১১১ জন যুগ্ম সচিব এবং ২০০ জন উপসচিব তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে সাধারণ ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। এর আগে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় করা হয়েছিল। এছাড়া জাতীয় সংসদেও সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে সংসদে বক্তব্য রেখেছেন।

 


আরো সংবাদ