১৬ নভেম্বর ২০১৯

প্রিয় বন্ধু

চারাগল্প
-


- খুব খারাপ লাগছে বাবা!
- হ্যাঁ মা। কাতর গলায় বলে সাহিল। কপালে একটু হাত বুলিয়ে দাও না।
সাহিলের মা ধীরে ধীরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। চোখ বুজে স্বর্গীয় এক প্রশান্তি অনুভব করে সাহিল। এমন অনুভূতি যেন তার আগে কখনো হয়নি। কী পরম মমতায় মা তার কোমল হাত দিয়ে মায়ার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। শরীরের যত ব্যথা, যত ক্লান্তি সব যেন নিমেষেই মিলিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎই ঘুমটা ভেঙে যায় সাহিলের। মধ্যরাত এখন। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। ফ্লোরে একটা ছেঁড়া তোশকে শুয়ে আছে সে। আশপাশে আরো শ’ খানেক ছেলে গভীর ঘুমে মগ্ন। সাহিলের মতো এরা সবাই এতিম। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে সাহিলের। দু’দিন যাবৎ ভীষণ জ্বর তার। এতিমখানার দায়িত্বে থাকা স্যার রাতে সাহিলের জ্বর মেপে তাকে এক পাতা জ্বরের ট্যাবলেট দিয়ে গেছেন। বলেছেন রাতে জ্বর বেড়ে গেলে খেয়ে নিতে। প্রচণ্ড গা ব্যথা করছে সাহিলের। উঠে গিয়ে ট্যাবলেট খাওয়ার শক্তি পাচ্ছে না। ওর পাশে শুয়ে থাকা সাগরকে ডাক দেয় সাহিল। সামান্য একটু নড়াচড়া করে আবার ঘুমিয়ে যায় সাগর। বেশ কিছুক্ষণ ডাকার পরেও সাগর না ওঠায় হাল ছেড়ে দেয় সাহিল। পায়ের নিচে ময়লা কাঁথাটা গায়ে জড়িয়ে নেয়। তার পর ভাবতে থাকে মা-বাবা থাকলে কত ভালোই না হতো। বাবা ফলমূল কিনে নিয়ে আসত তার জন্য। মা উদ্বিগ্ন হয়ে তার পাশে বসে থেকে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। যেমনটা স্বপ্নে বুলিয়ে দিয়েছিল। আচ্ছা মায়ের পরশে কি সত্যিই ওমন প্রশান্তি পাওয়া যায় যেমনটা সে স্বপ্নে পেয়েছিল? সেটা তো কেবল যাদের মা আছে তারাই বলতে পারবে। স্বপ্নটা কত সুন্দর ছিল! একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে সাহিলের ভেতর থেকে। ঘুমানোর জন্য চোখ বন্ধ করে সাহিল। তার চোখের কোণ দিয়ে বেরিয়ে আসে একফোঁটা অশ্রু।
সাহিল এবার এসএসসি দিয়েছে। ভীষণ মেধাবী। ছোটকালেই বাবা মা মারা যায় তার। সাহিলের এক মামা তাকে এই এতিমখানায় রেখে যায়। এরপর আর কোনো খোঁজ নেননি মামা। এতিমখানাতেই বড় হয় সে। এই এতিমখানাই তার ঘর। তার আশ্রয়।
আজ এসএসসির রেজাল্ট দিয়েছে। প্রত্যাশানুযায়ী গোল্ডেন পেয়েছে সে। তবু তার মনে কোনো আনন্দ নেই। একা একা এককোণে বসে বসে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করছে সে। সবাই রেজাল্ট জেনে বাবা মাকে ফোন দিয়ে রেজাল্ট জানাচ্ছে। যাদের রেজাল্ট প্রত্যাশামতো হয়েছে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আনন্দ করছে, উল্লাস করছে। কিছু ছাত্র আবার খারাপ রেজাল্ট হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ছে। যাদের বাবা বা মা সাথে এসেছে তারা তাদের সন্তানের কপালে চুমু খাচ্ছে। এগুলো প্রতি বছরের দৃশ্য। সাহিল একমনে দৃশ্যগুলো দেখে আর ভাবে, ইশ! আমার যদি বাবা মা থাকত। মাও আমার রেজাল্ট দেখে আমার কপালে চুমু খেত। বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদর করত। মাথা ঝাঁকায় সাহিল। মা বাবা, পরিবার তার কাছে এগুলোর অস্তিত্ব কেবল তার খেয়ালের মধ্যেই।
একটু পর একটা মিষ্টির বক্স হাতে সাহিলের দিকে এগিয়ে আসে সিয়াম। সাহিলের একমাত্র বন্ধু সিয়াম। যদিও সাহিলের মতো অত ভালো ছাত্র না। টেনেটুনে ষাট-সত্তর মার্ক চলে আসে তার। সাহিলের সামনে মিষ্টির বক্সটা ধরে সিয়াম বলল,
- নে মিষ্টি খা।
- বাহ! এ প্লাস পেয়েছিস নাকি? একটা মিষ্টি হাতে নিয়ে বলল সাহিল।
- আরে না। তাচ্ছিল্য করে বলল সিয়াম। এ প্লাস আর কোথায় পেলাম। ৪.৭৫ আসছে।
- কিন্তু তুই তো এ প্লাসের আশা করছিলি! আন্টি কিছু বলল না?
- বলবে না আবার? মুখ বাঁকা করে সিয়াম। এখনো বাসায় যাইনি। বাসায় গেলেই শুরু হবে ঝড়।
- তাহলে এই মিষ্টি কেন? সিয়ামের হাতের মিষ্টির বক্সটা দেখিয়ে বলল সাহিল।
- আরে, আমার একমাত্র বেস্টফ্রেন্ড এত ভালো একটা রেজাল্ট করেছে মিষ্টি খাইয়ে সেলিব্রেট করতে হবে না? সাহিলের কাঁধে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল সিয়াম।
সিয়ামের অমন কথায় তার দিকে কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে থাকে সাহিল।
- অমন হা করে কী দেখছিস? সাহিলের সামনে তুড়ি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করে সিয়াম। এই দেখ তোর মার্কশিট। আমি দোকান থেকে তুলে এনেছি। সাহিলের দিকে একটা কাগজ বাড়িয়ে দেয় সিয়াম। ম্যাথ আর ফিজিক্সে তো ৯৯ পেয়েছিস। কিপ্টা স্যার প্র্যাক্টিকেলে এক মার্ক কমিয়ে দিয়েছে। নাহলে পুরো হান্ড্রেড পেয়ে যেতি।
সাহিল তার মার্কশিটটা হাতে নিয়ে প্রতি সাবজেক্টের মার্কগুলো দেখে। তারপর কান্নাভেজা চোখে তাকায় সিয়ামের দিকে। সিয়াম মিষ্টির বক্সটা সাহিলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
- নে আরেকটা মিষ্টি খা।
সাহিল মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরে সিয়ামকে। ধরা গলায় বলে,
- জানিস, তুই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।


আরো সংবাদ

যথাযথ মর্যাদায় ভেটারানস ডে উদযাপিত নাশকতা কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে : রেলমন্ত্রী বাবরি মসজিদ রক্ষায় মুসলিমদেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : ইসলামী আন্দোলন কুমিল্লায় ২ কিশোর ও গেটম্যানের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল যাত্রীবাহী ট্রেন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন সাভার উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে : হাসিনা-সভাপতি রাজিব-সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ারশোতে যোগ দিতে আমিরাত যাচ্ছেন আজ ঢাবি থেকে ২৬ জনের পিএইচডি লাভ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অবসর গ্রহণের সুযোগ নেই : মহানগর জামায়াত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি জ্ঞাপনপত্র প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রত্যাখ্যান তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলো কমিটি

সকল