১৩ নভেম্বর ২০১৯

মানবতার সেবায় উদয়ন

-

গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ভালোবাসার সবটুকু জায়গা দখল করে আছে কিছু ব্যক্তি। প্রতি বছর বৃত্তি প্রদান, আর্থিক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সহায়তা, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনা, বই পড়া কর্মসূচি, চিকিৎসা ক্যাম্প, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ ভিন্নধর্মী সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বছরজুড়ে কাজ করেন এসব তরুণরা। পুরো জনপদকেই আলোকিত করে তুলেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট বাজারে গড়ে ওঠা ছয়টি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘উদয়ন ক্লাব’।
আজ থেকে ৩৮ বছর আগের কথা। ফেনী নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নে জন্ম হয় উদয়ন ক্লাব নামের একটি সংগঠন। ১৯৮১ সালে তখনকার কিছু কলেজপড়–য়া উদ্যোমী তরুণ এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই করেরহাট উদয়ন ক্লাব শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিরবচ্ছিন্ন অবদান রেখে চলেছে। প্রাথমিক বৃত্তি, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম, মাদকবিরোধী অভিযান, বৃক্ষরোপণ, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সহায়তা প্রদান, গরিব মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতাসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে জড়িত সংগঠনটি। অনেকটা উপজেলার অন্য সামাজিক সংগঠনের আইডল হিসেবে কাজ করে সংগঠনটি। বিশেষ করে তাদের প্রচলিত বৃত্তি পরীক্ষা এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে উদয়ন ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ে করেরহাটের যুবসমাজকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে এলাকার কলেজপড়ুয়া যুবক শওকত আলী, এমদাদুল হক, ফয়েজ আহাম্মদ, শওকত হোসেন, শেখ সেলিম, আবুল খায়ের, মো: শাহজাহানসহ ৩০-৩৫ জন মিলে গড়ে তোলেন ‘উদয়ন ক্লাব’। ক্লাবটি সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত।
বর্তমানে ক্লাবের সভাপতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সিরাজুল ইসলাম।
ক্লাবের সভাপতি মো: শেখ সেলিম জানান, প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮১ সালেই গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মো. জানে আলম সভাপতি ও মো: শওকত আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে প্রতি বছর নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে। ১৯৮৫ সাল থেকে উদয়ন মিরসরাই অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্বিতীয়-সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ‘উদয়ন মেধা বৃত্তি’ নামে প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছে। প্রথমে উত্তর মিরসরাইয়ে প্রাথমিক শাখায় বৃত্তি শুরু হয়। পরবর্তীকালে পুরো উপজেলা, পাশের ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি চালু হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের সনদ, এককালীন অর্থ ও পুরস্কার দেয়া হয়। উদয়নের বৃত্তি পরীক্ষার অনুসরণে বর্তমানে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা মেধা যাচাইমূলক পরীক্ষা চালু হয়েছে।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ উদয়ন ক্লাবকে স্বর্ণপদক প্রদান করে জেলা সমাজসেবা অধিদফতর।
ক্লাবের সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর উদয়নের পক্ষ থেকে উদয়ন বয়স্কশিক্ষা কার্যক্রম, মাদকবিরোধী অভিযান, বৃক্ষরোপণ, মৎস্যচাষ বেওয়ারিশ লাশ দাফন, গরিব মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, স্যানিটেশন, চক্ষুশিবির, নাট্যানুষ্ঠান, মাদক ও ইভটিজিংবিরোধী কর্মসূচি, উপজেলার উচ্চবিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। ১৯৯৩ সালে ক্লাবের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের (পুরোনো) দু’পাশে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, রেনট্রিসহ নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।
জানা গেছে, উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম সামাজিক সংগঠন উদয়ন ক্লাবের বর্তমানে নিয়মিত সদস্য রয়েছেন ২৮০ জন। কেউ এর সদস্য হতে হলে তাকে কমপক্ষে এসএসসি পাস করতে হয়। ক্লাব সূত্র জানায়, জাতীয় পর্যায়ের বহু শিল্পী ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন বিভিন্ন সময়। এদের মধ্যে আপেল মাহমুদ, শেফালী ঘোষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব, রথীন্দ্রনাথ রায়, বারী সিদ্দিকী, সৈকত দাশ, ক্লোজআপ ওয়ান তারাকা সালমা, নওমী, মুগ্ধ, ঐশি, বিন্দু কণা, মুনসহ দেশের খ্যতিমানা শিল্পীরা এখানে গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাটক মঞ্চস্থ হতো।
২০০২ সালে উদয়ন ক্লাব পেয়েছে তার নিজস্ব তিন শতক জমি। ২০১৯ সালে নতুন কমিটি গঠনের পর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই জমিতে করা হয় নিজস্ব ভবন।
উদয়নের কার্যক্রম সম্পর্কে করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে উদয়নের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। মূলত উদয়নই এই অঞ্চলে প্রথম বৃত্তি পরীক্ষা চালু করেছে। উদয়ন ক্লাব সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যুবসমাজকে উৎসাহিত করছে। তারই ধারাবাহিকতায় করেরহাট ইউনিয়নে আরো অনেক সামাজিক সংগঠন গঠে উঠেছে। সব সংগঠন যদি উদয়নকে অনুসরণ করে সমাজের জন্য কাজ করে তাহলে এই সমাজ থেকে অচিরেই মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, ‘মিরসরাইয়ের ক্লাবগুলোর মধ্যে ভালো কর্মকাণ্ডের দিক থেকে উদয়ন প্রথম সারির মধ্যে অন্যতম। তাদের কর্মকাণ্ডগুলো সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তারা যেভাবে সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে, এভাবে যদি সব সামাজিক সংগঠন কাজ করে তাহলে সমাজ থেকে অসঙ্গতি দূর হয়ে যাবে।’

 


আরো সংবাদ

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত (২৬৯৯৯)বাবরি রায় নিয়ে যা বললেন দিল্লির শাহী ইমাম (২৫২৯২)বিয়ের ২৮ দিন পর স্বামী হারানো সেই আফরোজার কোলে নতুন অতিথি (১২০৩৩)মন্দিরের আগে রামের বিশাল মূর্তি অযোধ্যায় (১১৯১২)হাসপাতালের মর্গে ছোঁয়ামনির নিথর দেহ, ইয়াছিনের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি (১০৮৮৭)ট্রেন দুর্ঘটনা : বি.বাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি ৪৪, রক্তের প্রয়োজন (৯৭৮৬)ব্রিটেনের নির্বাচনে পাকিস্তান-ভারত লড়াই! (৮৪৯৬)বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোতে প্রকাশ্য মতপার্থক্য ও বাকযুদ্ধ (৮১১২)গোসলের পর কাফন পরানো হলেও জানাজা হল না কিবরিয়ার (৭৮২৫)মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করায় গাম্বিয়াকে ঢাকার অভিনন্দন (৭৭৫৬)