১৯ আগস্ট ২০১৯

মাদরাসায় ঈদ

ঈদ আয়োজন
-

২০০৮ সালে রমজানের পর ভর্তি হলাম টঙ্গীর সাতাইশ মাদরাসায়। নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ। শিক্ষক-সহপাঠী সবাই নতুন। নতুনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে নিতে চলে এলো কোরবানির ঈদ। ঈদের খুশিকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলো বাড়ি ফেরার আনন্দ। কিন্তু সব আনন্দ উধাও হয়ে গেল যখন শুনলাম ঈদে বড় ছাত্রদেরকে ছুটি দেয়া হবে না। মাদরাসায় থেকে নাকি কাজ করতে হবে। সব আনন্দ রূপ নিলো কান্নায়। এ পর্যন্ত কোনো ঈদ বাড়ির বাইরে কাটাইনি। মা-বাবার কথা মনে হতেই কষ্টে মনের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। গ্রামে ঈদের স্মৃতিগুলো বারবার ভেসে উঠতে লাগল হৃদয়ের আয়নায়। মুখ ভার করে বসে থাকতাম। কান্না করতাম নীরবে। ঈদের তিন দিন আগে মাদরাসায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলো। অনুষ্ঠানে ছিল বেশ মজার মজার পর্ব। দেখে খুব আনন্দ পেলাম। ঈদের দুই দিন আগে ছোট ছাত্রদের ছুটি দেয়া হলো। ওদের বাড়ি ফেরা দেখে আমারো ইচ্ছা হচ্ছিল ছুটে যাই মায়ের কোলে। ছুটির পর মাদরাসা প্রায় নীরব হয়ে এলো। আমরা বড় কয়েকজন কেবল কাজের জন্য রয়ে গেলাম। ঈদের আগের দিন সকালে দেখি বড় বড় দুটো গরু মাদরাসার মাঠে বাঁধা। মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানির জন্য কেনা হয়েছে। আমার আনন্দ আর ধরে না। সারাক্ষণ গরু দুটোর লালন পালনে ব্যস্ত রইলাম। গরু পেয়ে বাড়ির কথা বেমালুম ভুলে গেলাম।
ঈদের দিন ফজরের আগেই গোসল সেরে নতুন জামা পরলাম। মাদরাসা থেকে দেয়া ফিরনি-পায়েস খেয়ে রওনা হলাম ঈদের জামাতে। নামাজের পর গরু দুটোকে জবাই করা হলো। অল্প সময়ে ওদের প্রতি বেশ মায়া জন্মে গিয়েছিল। ওদের কোরবানি হতে দেখে খানিকটা কষ্ট বোধ হলো মনে। মনকে প্রবোধ দিলাম। আমাকে গোশত কাটার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সবার সাথে বসে মনে আনন্দ নিয়ে গোশত কাটতে লাগলাম। কাজের ফাঁকে গল্প করতে করতে সময় গড়িয়ে দুপুর হয়ে এলো। আমাদের কাজও তখন শেষ। কোরবানির গোশত খেয়ে রওনা হলাম বাড়ির পথে। এক আনন্দের পর ছুটছি অন্য আনন্দের দিকে। মনের ভেতর তখন উড়ে বেড়াচ্ছিল টুকরো টুকরো খুশির ভেলা।
গাজীপুর

 

 


আরো সংবাদ

bedava internet