২৪ আগস্ট ২০১৯

ঘুরে এলাম ভেলোর

-

তখন রাত ১০টা। ট্রেন তার নিজ গতি থামিয়ে একটা স্টেশনে থামল। অন্ধকারে স্টেশনের তেমন কিছু দেখা না গেলেও বড় করে লেখা কাঠপাটি আবসা আবসা দেখতে পেলাম। তার পর ট্রেন থেকে নামলাম। স্থানটি হলো ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের চেন্নাইয়ের একটি শহর। কিছু দিন আগে এখানে ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বেনাপোল বর্ডার পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হলাম। যেমন এটা ছিল আমার এই ছোট্ট জীবনের প্রথম স্বদেশ ছেড়ে বিদেশ ভ্রমণ আবার তেমনি প্রথম আকাশপথে যাত্রা। বুঝতেই তো পারছেন কত রোমাঞ্চকর মুহূর্ত কাটিয়েছি। বড় বড় পাহাড়ঘেরা ভেলোর শহরের সব কিছুই মুগ্ধ করার মতো। বিভিন্ন কাজের ফাঁকে একদিন বিকেলে গেলাম পাহাড় দর্শনে। পাহাড় চূড়ায় উঠলে মনের ভেতর এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। পাহাড় থেকে শহরটার অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। শীতে ২৫-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও গরমের ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ার তাপমাত্রায় তামিলনাড়ু রাজ্যে গেলে বোঝা যায় গরমের প্রকারভেদ। জুন মাসের ঠিক মাঝামাঝি যাওয়ায় অত্যধিক গরম অনুভূত হয়েছে। সত্যি যা সহ্য করা খুবই কষ্টদায়ক। তবুও কাজের ফাঁকে ঘুরতে যাওয়ায় কোনো কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণী স্বর্ণমন্দির দেখে। এর আগে কখনো স্বর্ণমন্দির দেখার সুযোগ হয়নি। মন্দিরটি থিরুমালাইকোডির একটি ছোট পাহাড়ের ওপর অবস্থিত, যা ভেলোর শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এর প্রবেশাঙ্গনে দাঁড়িয়ে মন্দিরের অবস্থান সম্পর্কে কোনো আঁচ করতে পারলাম না। নিরাপত্তার নজিরবিহীন কড়াকড়ি। মোবাইল, ক্যামেরা ও ধাতবদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ৩-৫ রুপি দিয়ে ডিভাইসগুলো ও ২ রুপি দিয়ে পায়ের জুতা পলিথিনে মুড়ে জমা রাখতে হয়। সে কারণেই ভেতর থেকে ছবি তোলার সুযোগ হয়নি। প্রবেশের আগে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ছোট ছোট গেট পেরিয়ে চিড়িয়াখানার খাঁচার মতো লোহাঘেরা রাস্তা দিয়ে অন্যদের সাথে হাঁটতে শুরু করলাম। মাঝে মধ্যেই নিরাপত্তা কর্মীরা সর্বাঙ্গ নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করছে কোনো ধাতব পদার্থ আছে কিনা। প্রায় ১ কিলোমিটার লোহাঘেরা রাস্তা পেরিয়ে এবার প্রধান ফটকে এসে বুঝতে পারলাম এতক্ষণ মন্দিরের বহিরাঙ্গনে ছিলাম। এখন মূল মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছি। ভেতরে প্রবেশের পর আমি তো হতভম্ব। মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর থেকে পুরো রাস্তা পাকা মার্বেল পাথর বিছানো। উপরে মোটা সুদৃশ্য টিনের ছাউনি। হাঁটার রাস্তা প্রায় ১০-১২ ফুট প্রশস্ত। প্রায় মিনিট বিশেক হাঁটার পর সত্যি সত্যিই স্বর্ণমন্দিরের একাংশ নিজের চোখে দেখতে পেলাম। মন্দিরের মূল বেদিতে যাওয়ার রাস্তা এতটাই ঘুরানো পেঁচানো যে, পরিমাপক দণ্ডে প্রায় ১ কিলোমিটার পথ হবে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পারলাম, ২০০১ সালে এক ধর্মীয় নেতা মন্দিরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা ২০০৭ সালে শেষ হয়। এই মনোমুগ্ধকর মন্দিরটি ১০০ একর জমির ওপর অবস্থিত। মন্দিরটার দৈর্ঘ্যে ৬০ ফুট, প্রস্থে ২০-২২ ফুট হবে। সমভূমি থেকে মন্দিরের মূল লবি ১২-১৫ ফুট উঁচু হবে। মূল ভিতের ওপর ৯-১০ স্তরের সোনার মন্দির তৈরি করা এবং মন্দিরের মূল ডিজাইন হাতে তৈরি। ১৫শত কেজি সোনা দিয়ে সাজানো, যা অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের দ্বিগুণ। এ ছাড়া মন্দিরের এলাকায় রয়েছে শ্রী নারায়ণী হাসপাতাল ও রিসোর্স সেন্টার, রয়েছে বিদ্যালয় ও গেস্টহাউজ। প্রায় বিশ দিন ভেলোর শহর থেকে এক বিরাট অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম, যা স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল।
গলাচিপা, পটুয়াখালী


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet