২৪ আগস্ট ২০১৯

সুখের শ্রাবণে...

-

নির্জন রাতে টিনের চালে ঝুম বৃষ্টির ছন্দ কেউ কী কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করে দেখাতে পারবে? কেউ কী শ্রাবণের মুখরিত সেই বৃষ্টির রূপ অন্য কিছুতে অঙ্কন করে দেখাতে পারবে? না, পারবে না। শ্রাবণের বৃষ্টির তুলনা কেবলই বৃষ্টি। যদিও বৃষ্টি কারো কারো মনে বিরহের সুর জাগায়। তথাপি এই বৃষ্টিকে আমার কাছে সুখের এক মহা পঙ্খিরাজই মনে হয়। এ বৃষ্টি দোলা দেয় না এমন মন কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শ্রাবণের বৃষ্টিকে বেশির ভাগ কবি-সাহিত্যিক আকাশের কান্না বলে অভিহিত করে থাকেন। বৃষ্টির ছন্দের সাথে সাথে কষ্টের মালা গাঁথার কথা বলেন। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা বৃষ্টি কী শুধুই দুঃখের প্রতীক? বৃষ্টি তো অনেক মানুষকে সুখের পরশও দিয়ে থাকে। মনে কী পড়ে না? শিশুকালে জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখা। আর কিশোর কালে বৃষ্টির সাথে একাত্ম ঘোষণা করে কত আনন্দ বয়ে আনত! বৃষ্টির ঝরে পড়া ফোঁটাগুলোকে খেলার সাথী ভেবে আকাশ পানে হা করে তাকিয়ে থাকা! এই শ্রাবণের বর্ষণে জমে থাকা পানিতে জলকেলি করা। মাছদের পেছনে হরদম ছোটাছুটি করা। বৃষ্টির ছন্দের তালে তালে নৃত্য করতে গিয়ে জ্বর, সর্দিকে আপন করে নেয়া। এ শ্রাবণের বৃষ্টির কারণে কত কবির আবির্ভাব হয় তার হিসাব থাকে না। এ শ্রাবণের বৃষ্টি কত প্রেমিক-প্রেমিকার মনে প্রেম জাগায় তারও হিসাব নেই। বৃষ্টির ছন্দ অচেতন মনেও সুর জাগিয়ে তুলে।
শ্রাবণের রিমঝিম শব্দ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত করেছে রবীন্দ্রনাথকে। ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘন ঘোর বরিষায়, এমন দিনে মন খোলা যায়’, ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে, দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে’, ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী, উড়ে চলে দিক-দিগন্তের পানে’ ।
‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে, জানি নে জানি নে কিছুতে যে কেন মন লাগে না’ বা ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে, পাগল আমার মন জেগে ওঠে’ এরকম গান যে কখন কণ্ঠে বেজে ওঠে, উতলা মন নিজেও জানে না।
‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি নিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। শতবর্ষ পেরিয়েও যা রয়ে যায় একেবারে অমলিন! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়িয়ে বর্ষায় কবি কাজী নজরুল ইসলামও কম যাননি। তিনি লিখেছেন, ‘রিমঝিম রিমঝিম ঝিম ঘন দেয়া বরষে, কাজরী নাচিয়া চলে, পুর নারী হরষে’, ‘এ ঘোর শ্রাবণ, দিন কাটে যেমন; বলো তুমি বিনে প্রিয়তম মোর’। কখনো কখনো বিরহে নীল হয়ে কবি লেখেন, ‘শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না, বরষা ফুরায়ে গেল আশা তবু গেল না’। প্রিয় মানুষের স্মরণে কবি বর্ষার রাতে গেয়ে ওঠেন, ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝড় বহে নয়নে বারি ঝরে’।
পরিশেষে, বৃষ্টি চাই! বৃষ্টি চাই! এই শ্রাবণে শুধুই বৃষ্টি চাই। শ্রাবণকে তার পুরনো রূপে ফিরে পেতে চাই।

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet