১৭ জুলাই ২০১৯

তিনিই আমার মা

-

গভীর রাতে দু’হাত তুলে রবের কাছে প্রার্থনা করেন যিনি, তিনি আমার মা। আমার মুখের ভাষা অনায়াসে বুঝে ফেলতেন যিনি, তিনি আমার মা। দুঃখ-কষ্টে সান্ত্বনার বাণী শুনাতেন যিনি, তিনি আমার মা। শত বেদনা অম্লান বদনে সয়ে যেতেন যিনি, তিনি আমার মা। শৈশবে বৃষ্টিভেজা বালকের জন্য আকুল হতেন যিনি, তিনি আমার মা। আমি একবার ডিঙি নৌকায় নদীতে ভেসে গিয়েছিলাম, তখন যার আর্তনাদে গ্রামের মানুষ আমাকে বাঁচাতে ছুটে এসেছিল, তিনি আমার মা। আমার শৈশবে অদ্ভূত ইচ্ছাগুলো সান্ত্বনার সাহায্যে ভুুলিয়ে দিতেন যিনি, তিনি আমার মা। আমার জীবনের প্রথম লগ্নে যিনি আমাকে পৃথিবীর পথে উপযুক্ত করেছিলেন, তিনি আমার মা। ত্যাগ-তিতিক্ষার বিপন্ন দিনগুলোতে আগলে রেখেছেন যিনি, তিনি আমার মা। দৃশ্য ও অদৃশ্য মন যাকে ঘিরে, তিনি আমার মা। নিজেকে উজাড় করে সর্বস্ব ঢেলে দেন যিনি, তিনি আমার মা। হতাশার সমস্ত বাধার প্রাচীর ভেঙে যিনি আমাকে দেখিয়েছেন সত্য পথ, তিনি আমার মা। দূরদিগন্ত পথপানে এখনো আমার প্রতীক্ষায় চেয়ে থাকেন যিনি, তিনি আমার মা। ‘বড় মাপের কারো প্রশংসা করতে চাইলে তারই ছায়ায় নিজেকে গড়ে তুলতে হয় খানিকটা’। যিনি বলতেন, তিনি আমার মা। কুলহীন ঢেউয়ের সাথে হাবুডুবু খেয়ে আমাকে মানুষ করেছেন যিনি, তিনি আমার মা। দিকহারা পথভোলা মানবকুলের মাঝে প্রভাত বেলা জেগে ওঠা লাল অরুণের সাজ দেখিয়েছেন যিনি, তিনি আমার মা। অসংখ্য প্রশংসাগাথা যার জন্য ঝরে পড়ে, তিনি আমার মা। অজস্র নিস্তব্ধতা অন্ধকার ভেদ করে যার মধুর কণ্ঠ কানে ভাসে ‘ওঠো আহমদ, রাত শেষ হয়ে গেছে, তিনি আমার মা। একাকী কোথাও যখন নির্জনে হেঁটে চলি, তখন বাতাসে গাছের পাতায় সাড়ায় যার কণ্ঠস্বর শুনতে পাই, ‘খোকা! কোথায় যাচ্ছিস?’ তিনি আমার মা। যার চরণে করি আমি আত্মনিবেদন, আমার সত্তা ও অন্তর মন, হ্যাঁ! তিনিই আমার মা।
আমার সবকিছু একান্তই তোমার জন্য। তুমি আমাকে জন্ম দিয়েছ, শৈশবে লালন-পালন করেছ, শাসন-অনুশাসনের মধ্য দিয়ে বড় করে তোলেছ, বিপদে আশ্বাস এনেছ, সংগ্রামে পাশে দাঁড়িয়েছ। আমার সবকিছুই তোমার জন্য নিবেদিত।
শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi