১৭ জুলাই ২০১৯

বাদল দিনের কদমফুল

-


জ্যৈষ্ঠ শেষে এক পশলা বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে গ্রীষ্মের রুক্ষতা কাটিয়ে সতেজ হয় প্রকৃতি। ফিরে আসে প্রকৃতির আপন প্রাণ। নতুন বারিধারার স্নিগ্ধ পরশে গাছে ফোটে কদম ফুল। এই কদম ফুল আর বৃষ্টি জানান দেয় বর্ষার আগমন। টিনের চালে বৃষ্টির ঝিরিঝিরি শব্দ যেন বর্ষার আগমনী গান। তাইতো বর্ষাকে কেউ কেউ বলেন ঋতুরাণী।
প্রকৃতিতে এখন হিজল বনে ঝরা হিজল ফুল, বকুল ফুলের ম ম গন্ধ। সেই সাথে বর্ষার কদম কেয়াতো আছেই। প্রেমিকার মন পেতে কদম ফুলের জুড়ি নেই। বর্ষাতে প্রেয়সীর খোঁপায় থাকুক কদম ফুল। সে বসে থাকুক অপেক্ষার স্টেশনে। যেখানে শুধু টুপটুপ বৃষ্টির শব্দ। অবশেষে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে তার সামনে হাজির হই বর্ষার প্রথম কদম নিয়ে। এমন কতশত রোমাঞ্চকর ভাবনাইতো বর্ষা নিয়ে আসে।
এই বর্ষা আমাদের সাহিত্যে যোগ করেছে কতশত রসদ। তার স্নিগ্ধতায় ব্যাকুল হয়েছিলেন রবীন্দ্র-নজরুল, জসীম উদদীন,আল মাহমুদ। বর্ষার উপহার সোনা রঙের কদম ফুল নিয়ে রচিত হয়েছে নানা গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিহরন জাগানিয়া বর্ষার গানে লিখেছেন,
‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’।
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কদম-প্রেমে মজে রচনা করেছেন পাঠকনন্দিত উপন্যাস ‘বাদল দিনের দ্বিতীয় কদম ফুল’।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মনেও কোমলতা এনেছে স্বর্ণরঙিন কদম ফুল। তিনি লিখেছেনÑ
‘দোলে শিহরে কদম,
বিদরে কেয়া/নামিল দেয়া।
পল্লীকবি জসীম উদদীন তার ‘পল্লীবর্ষা’ কবিতায় উল্লেখ করেছেন-
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিয়ে অস্ফুট কলিকায়!
পল্লীকবি হিজলের সাথে বর্ষার সম্পর্ক দেখিয়েছেন এভাবে,
হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি
নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়াছে না জানি সেই কোন দিঠি!
বর্ষার বিশেষ অনুষঙ্গ কদম একটি নিবিড় পত্রবিন্যাসের ছায়াঘন বৃক্ষ। শীতে কদমের পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। কদমের পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলে মনে হলেও তা মূলত বর্তুলাকার মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। কদম কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মাংসল ও টক ফল বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহক।
কদম মূলত বর্ষার ফুল হলেও জলবায়ুর পরিবর্তনে আগাম বৃষ্টির কারণে জ্যৈষ্ঠ মাসে এবং ভাদ্র আশ্বিনেও চোখে পড়ে। বৃষ্টি হলেই কদম ফুল ফোটে। এর বজ্রগর্ভে বৃষ্টির পানি পৌঁছলেই ফুল ফুটতে শুরু করে।
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi