২৬ আগস্ট ২০১৯

প্রয়োজন সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান বায়ুদূষণ

-

শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই বায়ুদূষণ বাড়ছে। এ কারণে বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁঁকিও। এই দূষণ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। দূষণ রোধে সব মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও জরুরি। দূষণ রোধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে ‘আসুন বায়ুদূষণ রোধ করি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং দৈনিক সমকাল।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসিন চৌধুরী বলেন, বায়ুদূষণ রোধে অনেক দিন থেকে কাজ হচ্ছে। তাৎক্ষণিক বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে, যা ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। বায়ুদূষণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কারণ নির্ণয়ে নতুন জরিপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দূষণ রোধে যথোপযুক্ত, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতন হতে হবে। তা হলে দূষণ রোধে ফল মিলবে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, বৃষ্টি হওয়ার পরও বায়ুদূষণ কমছে না। ইটভাটা বন্ধ থাকার সময়ও বেশি দূষণ থাকে। রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য বিপজ্জনক দূষণ পাওয়া যাচ্ছে। এটা রোধে পরিকল্পনা করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। রাজশাহী শহর পরিচ্ছন্ন, ঢাকা কেন পারবে না? ভারতের চেন্নাই শহরে কেউ পলিথিন ব্যবহার করে না। ঢাকার মানুষ কেন পারবে না? চীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর। বাংলাদেশ কেন পারবে না? অন্যরা পারলে বাংলাদেশও পারবে। মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে পরিবেশদূষণ বাড়ছে। জাতিসঙ্ঘের তথ্যমতে, পরিবেশ দূষণে বিশ্বে বছরে ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোতে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ। বায়ুদূষণের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। দেশে শুষ্ক মওসুমে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের ৭৮ শতাংশ ইটভাটা পরিবেশসম্মত উন্নত প্রযুক্তির। ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (কেস) প্রকল্পের মাধ্যমে বায়ুর মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর ১২০টি দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া বন্ধে অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এই নীরব ঘাতক শিশু থেকে শুরু করে সবার ক্ষতি করছে। কঠোর মনিটরিং হলে বায়ুদূষণ বন্ধ হবে। মিডিয়ায় বায়ুদূষণের কুফল প্রচার করতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, আইন বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতরের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি দফতর, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলোকেও কাজে লাগাতে হবে। চিকিৎসকদের বায়ুদূষণের প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে ধারণা দিতে হবে।
পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক
কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দূষণ রোধে এখনই সবাইকে নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে সচেতনতার কাজে নামতে হবে। দূষণের কারণে অসুস্থ শিশুর জন্ম হচ্ছে। শিশুরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। স্কুলের শিশুদের অ্যাজমা বেড়ে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে।
বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোলায়মান হায়দার বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণ একটি নীরব প্রাণঘাতী প্রক্রিয়া। ফুসফুস ক্যান্সারের ২৭ শতাংশ হয় বায়ুদূষণের কারণে। এ ছাড়া হৃদরোগের ২৫ শতাংশ, শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী দূষিত বায়ু। তিনি বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। এই নগরে চারপাশে এক হাজার দুই শ’র অধিক ইটভাটা রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: খালেকুজ্জামান বলেন, ঘরের বায়ুদূষণ নিয়ে আলোচনা হয় না। শিশুরা মায়ের সাথে বেশি সময় থাকে। রান্নার সময় শিশুরা মায়ের সাথে রান্নাঘরে থাকে। রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার দূষণে শিশুরা মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। এতে তাদের ব্লাড ক্যান্সার হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি বাড়ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বায়ুদূষণের দায় রয়েছে।
ঢাকায় দূষণের জন্য ইটভাটা ৫৮ শতাংশ দায়ী। উন্নয়নের জন্য সারাদেশে ইটভাটা বাড়ছে, সেই সাথে দূষণও বাড়ছে। ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলে দূষণ কমে আসবে।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, প্রচলিত ইটভাটায় দূষণ বেশি হয়। তিনি বলেন, ডিজেলে সালফারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং টু স্টোক অটোরিকশা নিষিদ্ধ ও সিএনজিচালিত বাহন নামানোর সিদ্ধান্তে ঢাকা শহরের বায়ুতে সালফারজনিত দূষণের মাত্রা কমেছে; কিন্তু ইটভাটাজনিত দূষণ বেড়েছে।


আরো সংবাদ

সকল

যেভাবে গভীর রাতে জামালপুর ত্যাগ করলেন সেই ডিসি (১৮৩৩০)নারী কেলেঙ্কারীর দায়ে সেই জেলা প্রশাসকের ‘ইতিহাস সৃষ্টির মতো’ শাস্তি হচ্ছে (১৫৬৭৭)ইদলিবে মুখোমুখি অবস্থানে তুর্কি ও আসাদ সেনারা : পুতিনকে এরদোগানের জরুরি ফোন (১৫৪৭৮)প্লট চাওয়া নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা (১৪৮৯১)জামালপুরের ডিসির কেলেঙ্কারি তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (৯৫৯৩)‘দরকার হলে এদেশে আজীবন থাকবো’ (৮৮৩২)কাশ্মির নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মকর্তার পদত্যাগ (৮৭৪৬)ডেঙ্গু রোগীর খাবার নিয়ে রমরমা বাণিজ্য (৮০৬২)কনে ‘কুমারি’ কি না শব্দ উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ (৭৬৬১)কাশ্মিরে উঠেছে ব্যারিকেড, রয়ে গেছে কাঁটাতারের বেড়া (৭২৮৪)



mp3 indir bedava internet