২৬ এপ্রিল ২০১৯

এই শুভ্র, এই... : চারাগল্প

-

শুভ্রদের গ্রামের শেষ সীমানায় একটি দীঘি আছে। দীঘির নাম মায়াদীঘি। কে বা কারা এই দীঘির নামকরণ করেছে, তা গ্রামের কেউ জানে না। এমনকি এই দীঘি কে খনন করেছে, তার ইতিহাসও জানা যায়নি।
মায়াদীঘি বড় ভালো লাগে শুভ্রর। প্রায়ই বিকেলে দীঘির কিনারে এসে পানি ছুঁয়ে দেখে শুভ্র। কী স্বচ্ছ দীঘির পানি। মাঝে মাঝে শুভ্রর ইচ্ছে করে দীঘির পানিতে অবাধ সাঁতার কাটতে। কিন্তু মায়ের যে বারণ খুব। মা চায় না শুভ্র কখনোই দীঘি দেখতে আসুক। কোনো এক অজানা কারণে মায়াদীঘির সাথে মায়ের বড় ঈর্ষা। তাই শুভ্র যখন দীঘি দেখতে আসে, সাধারণত মাকে বলে আসে না।
২.
সেদিন এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যার ছায়া নামার সাথে সাথে শুভ্র যখন দীঘির পাড় থেকে বাড়ি ফিরছিল, হঠাৎ কে যেন তাকে নাম ধরে ডাকল, ‘এই শুভ্র, এই।’ পিছু ফিরে তাকায় শুভ্র। কাউকে দেখতে পায় না। ওই মেয়েলি কণ্ঠে কে ডেকেছে শুভ্রকে। ভয় পেয়ে সে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে।
ঠিক পরের দিনও একই ঘটনার পুরনাবৃত্তি। দীঘি দেখতে দেখতে যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ছে, শুভ্র বাড়ি ফিরতেই আবার সেই অচেনা নারীকণ্ঠ, ‘এই শুভ্র, এই।’ আজো কাউকে দেখতে পায় না শুভ্র। কে ডেকেছে তাকে এমন নাম ধরে!
বাড়ি ফিরতেই মায়ের বকুনি, ‘কোথায় গেছিস?’ স্বাভাবিক গলায় শুভ্রর জবাব, ‘মাঠে খেলতে গেছি।’ উত্তেজিত হয়ে মায়ের কড়া গলা, ‘মিথ্যে বলছিস। তুই দীঘি দেখতে গেছিস। ফারুকের মা বলেছে আমাকে। তোকে না বলেছি কখনো দীঘি দেখতে যাবি না!’ জিদ্দি গলায় শুভ্র বলে, ‘গেলে সমস্যা কী? আমি কি দীঘিতে ডুবে মরব?’ দৌড়ে এসে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে মা কেঁদে বলছেন, ‘ওই দীঘি যে আমাদের আল্পনাকে কেড়ে নিয়েছে বাবা। তোকেও কেড়ে নিলে আমার কী হবে?’
সেদিনই শুভ্র প্রথম জানে আল্পনা নামে তার একটি বোন ছিল। পনেরো বছর আগে সেই বোন মায়াদীঘিতে গোসল করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। সবার ধারণা পাতালপুরীর রাক্ষস আল্পনার পা ধরে টেনে তাকে অতলে নিয়ে গেছে।

৩.
আজো মাকে না বলে চুপি চুপি মায়াদীঘি দেখতে এসেছে শুভ্র। শুভ্রর আজ মন খারাপ। এই দীঘি তার বোনকে খেয়েছে। এই দীঘির সাথে আজ থেকে তার জন্মের আড়ি। সে আর এই দীঘি দেখতে আসবে না। এই শপথ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতেই সেই মেয়েলি কণ্ঠের ডাক, ‘এই শুভ্র, এই।’
শুভ্রর মনে হলো এই ডাকটি তার বোন আল্পনার। দীঘির অতল থেকে সে ভাইকে ডাকছে। না, এই মায়াদীঘির সাথে কোনো আড়ি নয়। এই মায়াদীঘিতে তার বোনের অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে। এখন থেকে সে রোজ এখানে আসবে বোনের ডাক শুনতে।
বাড়ি ফিরে যাচ্ছে শুভ্র। পেছন থেকে সেই ডাক ভেসে আসছে, ‘এই শুভ্র, এই...।’ শুভ্রর চোখের জল টপটপ করে পড়ছে।
আমিশাপাড়া, নোয়াখালী।

 


আরো সংবাদ

iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat