২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বন্ধু

-

রাজু আর রবি, ওরা দুই বন্ধু। খেলাধুলা থেকে শুরু করে সব কিছুই চলে এক সাথে। একদিন একে অপরকে না দেখে থাকতেই পারে না। কিন্তু কয়েকদিন হলো রবির কোনো খবর নেই। বেশ কিছুদিন হলো স্কুলেও আসছে না। ওর কী হয়েছে কে জানে! রবিকে নিয়ে রাজুর যত টেনশন।
সামনে বার্ষিক পরীক্ষা, সবাই পড়াশোনায় ব্যস্ত। কয়েক দিন হলো দু’জনের তেমন যোগাযোগ নেই। রাত পোহালেই পরীক্ষা। রাজু ভাবে, একটু রবির খবর নেয়া দরকার। ওর কিছু হলো কি না কে জানে! কাল পরীক্ষা।
যে কথা সেই কাজ! বিকেলে ঘুরতে ঘুরতে রবির বাসায় গেল রাজু। রবির মন খারাপ। পড়ার টেবিলে বসে আছে। রাজুকে দেখে রবির মনে একটু স্বস্তি ফিরে এলো। রাজু বলল, ‘কি রে, তোর খবর কী? কয়েক দিন হলো কোনো পাত্তাই নেই তোর। পরীক্ষা দিবি না?’ রবি মলিন কণ্ঠে বলল, কী করব বল! স্যার বলেছেন, যার পরীক্ষার ফি বাকি থাকবে, তাকে খাতা দেয়া হবে না। বাবা তো এখনো পরীক্ষার ফি দিতে পারেননি। আর আমার স্কুলের ড্রেসটাও অনেক দিন নষ্ট হয়ে গেছে, যার জন্য স্কুলেই যাওয়া বন্ধ। এ অবস্থায় পরীক্ষা দেবো কী করে বল?
-আঙ্কেলকে বলিসনি?
-সকালেও বলেছি। কিন্তু তিনি কী বললেন জানিস?
-কী?
- বললেন, আমাদের মতো গরিবদের নাকি এ রকম দু-একটা পরীক্ষা না দিলে কিছুই হবে না।
- মানে?
- মানে তো বুঝতেই পারছিস। পরীক্ষাটা এবার আর দেয়া হবে না।
রাজু কী যেন ভাবল, তারপর বলল, তাই বলে তোর পরীক্ষা দেয়া হবে না? না, আমি এটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। এ ব্যাপারটা আমাকে আরো আগে জানানো উচিত ছিল তোর। যা হোক, তুই এ ব্যাপারে একদম টেনশন নিস না! কাল যথাসময়ে স্কুলে আয়, বাকিটা আমি বুঝবো।
রবি বলল, ‘দোস্ত, তুই কী বলছিস? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। এত টাকা....!’
আমি বললাম, তোর কিছুই বুঝতে হবে না। তুই ঠিক সময়ে চলে আসবি কিন্তু! আমি চললাম রে। দেরি হলে বাবা আমাকে বকবেন। রাজু চলে গেল।
আজ প্রথম পরীক্ষা। রবি স্কুলগেটে দাঁড়িয়ে আছে। রাজু এসে তাড়াহুড়ো করে স্কুলব্যাগ থেকে একটা স্কুলড্রেস বের করে দিলো রবিকে। দিয়ে বলল, তাড়াতাড়ি পরে নে! রবি স্কুলড্রেস হাতে নিয়ে বলল, তুই ড্রেস কোথায় পেলি রাজু? এখন কথা বলার সময় নেই, পরে শুনিস- এই বলে রাজু অফিসরুমে গিয়ে রবির পরীক্ষার ফি দিলো। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বেরিয়ে রাজু রবিকে বলল, তোর পরীক্ষা কেমন হলো রে? ও বলল, মোটামুটি। তোর?
-আমারো পরীক্ষা ভালো হয়েছে। বাবা বলেছেন কী জানিস?
- কী?
-পরীক্ষা ভালো হলে আমাকে একটা লাল সাইকেল কিনে দেবেন।
-সে তো ভালো কথা। তোর বাবা কত সুন্দর! তোকে সাইকেল কিনে দেবেন। আর আমার বাবা স্কুল ফি-ই দিতে পারেন না!
রাজু বলল, দূর বোকা! মন খারাপ করিস না তো! আমার সাইকেল হলে তো তুইও চালাতে পারবি। বাদ দে ওসব। এবার ক্যান্টিনে চল! খুব ক্ষুধা লেগেছে।
বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ


আরো সংবাদ