১৫ নভেম্বর ২০১৮

বন্ধুত্ব

-

বন্ধুত্ব প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ অলিখিত একটি সম্পর্কের নাম। এ সম্পর্কটি জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এর যতœ নিতে হয়। কখনো কখনো হাসিমুখে নিজের ইচ্ছেও লুকিয়ে রাখতে হয়। ত্যাগ করতে শিখতে হয় বন্ধুর জন্য। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা যতটা কষ্টসাধ্য, এর ফল ততটাই মিষ্ট। এই বন্ধুত্বের শেকড় হচ্ছে বিশ্বাস। বন্ধুবিহীন জীবন অবিশ্বাস্য ও অপরিপূর্ণ। জীবনে চলার পথে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, কিন্তু সময় ও বাস্তবতার তাগিদে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমনিভাবে প্রয়োজনের তাগিদে কিছু মানুষ দূরে চলে গেলেও সবাইকে আবার ভোলা যায় না। যদিও স্থান-কালভেদে আবার কারো সঙ্গে গড়ে ওঠে নতুন বন্ধুত্ব। এভাবে জীবনে অনেকে বন্ধু হয় বটে, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু খুব কমই জোটে।
আমি খুব ছোটবেলা থেকেই আব্বু-আম্মু, ভাই-বোন থেকে বেশ দূরে থাকি। পরিবারের মেজো সন্তান ছিলাম আমি। শুনেছি মেজোরা নাকি একটু বৈরী প্রকৃতির হয়। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। আব্বু-আম্মুকে ফাঁকি দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো, পাখির বাসার ডিম চুরি, চৈত্রদিনে দিনভর পানিডুবি খেলা, সাঁঝবেলা জোনাকির পিছে দৌড়ানোÑ এসবের সাথেই মিশে ছিল আমার শৈশব, কিছুটা কৈশোরও বটে। অনেকটা রবিঠাকুরের ছুটি গল্পের ফটিকের মতো বলা যায়। লেখাপড়ার জন্য খুব ছোটবেলায়ই বাড়ি ছেড়েছিলাম। ওখানে পূর্বপরিচিত কেউ ছিল না আমার। প্রথম দিনগুলোতে নিঃসঙ্গতাই যেন আমার সঙ্গী ছিল। তখন আমার শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে হলে ভেতরটা খুব করে পোড়াত। মাঝে মধ্যে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে গাঁয়ের দলছুট ছেলেদের কথা মনে করে খুব কান্না করতাম। আমার কাছের সহপাঠীরাই তখন আমাকে সান্ত্বনা দিত। আদর মেখে কত করে বোঝাত। শিগগিরই ওদের অতি আপন হয়ে গিয়েছিলাম আমি। ওই দিনগুলোতে ওরা আমাকে সান্ত্বনা ও সঙ্গ না দিলে হয়তো আজ এ পর্যন্ত আসা হতো না। তাই আজো স্কুলজীবনের সেই বন্ধুদের বেশি মিস করি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


আরো সংবাদ