২০ নভেম্বর ২০১৮

বৃষ্টিভেজা দিনে

চারাগল্প
-


চারদিকে ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে। গুমোট অন্ধকার। ইলেকট্রিসিটি নেই। একটু বৃষ্টি হলেই মফস্বল শহরে ইলেকট্রিসিটি থাকে না। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়েছে। এখন বৃষ্টি নেই। থেমে গেছে। ঠাণ্ডা ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। মনির হাঁটছে। লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুত হাঁটছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে বাসায় পৌঁছাতে হবে। বর্ষার আকাশ। কোনো বিশ্বাস নেই। যেকোনো মুহূর্তে আবার বৃষ্টি নামতে পারে। ইলেকট্রিসিটি না থাকায় অন্ধকারে জোরে হাঁটতে গিয়েও পারছে না সে। খানাখন্দে হোঁচট খাচ্ছে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খানাখন্দ পার হচ্ছে।
আবার নামল ঝুম বৃষ্টি। নিকষ কালো অন্ধকার রাত। বৃষ্টি পড়ছে রিমঝিম শব্দে, ছন্দ তুলে। রাস্তার পাশে ভরা পুকুর, ভরা ডোবা। পুকুর আর ডোবায় ছন্দ তুলে বৃষ্টি নাচছে টুপটাপ শব্দে।
মনির থমকে দাঁড়ায়। মনে পড়ে অনামিকাকে। বড্ড বৃষ্টিপাগল মেয়েটা।
এরকম এক নিকষ কালো ঝুম বৃষ্টির রাতে একদিন ফোন করে বলল, এ্যাই শুনছ?
বলো।
তুমি কোথায়?
বাসায়।
একটু আসতে পারবে?
কোথায়?
আমাদের বাসায়।
কেন?
বৃষ্টিতে ভিজব। বৃষ্টি আমার খুব প্রিয়। অন্ধকারে রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজতে আমার খুব ভালো লাগে। অন্ধকারে বৃষ্টির ভরা যৌবন আসে। পুকুর, খালে-বিলে ছন্দ তুলে নাচে। টুপটাপ শব্দে গান ধরে।
আমার কী যে ভালো লাগে!
বৃষ্টির প্রতি ওর দুর্বলতা দেখে আর না বলতে পারেনি মনির। বৃষ্টিতে ভিজে ছুটে গিয়েছিল অনামিকার কাছে।
দুজনে বৃষ্টিতে ভিজে পাশাপাশি বসেছিল পুকুরপাড়ে। দেখছিল অন্ধকারে বৃষ্টির নাচনকুদ্দন। কী নান্দনিক ছন্দ তুলেই না নাচছে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো। তা দেখে অনামিকা সে কী খুশি!
হেসে উঠে খিলখিল করে।
বৃষ্টি বাড়ছে। বৃষ্টির ফোঁটা আরো বড় ও ঘন হচ্ছে।
মনির আরো দ্রুত পা বাড়ায়। বাসায় অনামিকা একা আছে। কয়েকদিন হলো তার দাদু মারা গেছেন। দাদুকে খুব ভালোবাসত সে। দাদুকে হারিয়ে বড় ধরনের শক খেয়েছে ও। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছে না। হাসছে না। সারাক্ষণ শুধু মন খারাপ করে চুপচাপ বসে থাকে। মনির কিছুতেই তাকে স্বাভাবিক করতে পারছে না।
মনির বাসায় ফিরে দেখে অনামিকা অন্ধকার ঘরে চুপচাপ বসে আছে।
অনামিকা!
হু।
চলো।
অনামিকা অবাক। কোথায়?
ছাদে।
তোমার কী মাথা খারাপ?
কেন?
এই বৃষ্টিতে ছাদে যাবে?
হুম।
তুমি কি পাগল?
পাগল নয় খুকি। ছাদে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজব। বৃষ্টিতে ভিজে ছাদে বসে দুজনে চা খাবো। বলেই অনামিকাকে পাঁজাকোল করে কোলে তুলে নিলো মনির। সাথে সাথে তার ভেজা গায়ের সাথে লেপটে যায় অনামিকার শরীর। বৃষ্টিতে ভিজে সজীব হয়ে উঠে অনামিকার শরীর ও মন। হাসি আর উচ্ছ্বাস খেলা করে তার চোখেমুখে। খলখলিয়ে হেসে উঠে সে। সত্যিই তুমি একটা বড্ড পাগল মনির!
মনির তাকে কোলে নিয়ে দ্রুত সিঁড়ি ডিঙিয়ে উঠতে থাকে ছাদের দিকে।
সেতাবগঞ্জ, দিনাজপুর

 


আরো সংবাদ