১৬ ডিসেম্বর ২০১৯
মতবিনিময়ে বক্তারা

গৃহ শিশুশ্রম সবসময়েই উপেক্ষিত 

গৃহ শিশুশ্রম সবসময়েই উপেক্ষিত  - ছবি : সংগৃহীত

অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণখাতে শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলেও গৃহকর্মে চার দেয়ালের ভিতরে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলে পারতপক্ষে কারও পক্ষেই তা জানা সম্ভব হয় না। গৃহ শিশুশ্রম সবসময়েই উপেক্ষিত থেকে গেছে।

মঙ্গলবার দি ডেইলি স্টার ভবনে শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুনিশ্চিতকরণ : সমস্যা এবং সম্ভাবনা" বিষয়ক জাতীয় মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস’ ও ‘গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট চাইল্ড লেবার’র সহায়তায় মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজন করে।

শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সরকার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কাজের তালিকা তৈরি করলেও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম এর চেয়েও বেশি অনিরাপদ। বিএসএএফ এর গবেষণা ফলাফল উদৃত করে তিনি বলেন, শিশু গৃহ শ্রমিকরা গড়ে প্রতিদিন ১৭ ঘন্টা কাজ করে, যা যেকোন আইনেই নিষিদ্ধ। তাদের কোন সাপ্তাহিক ছুটি বা ওভারটাইম নেই আবার নিজ পরিবার থেকেও এরা বিচ্ছিন্ন। সেই সাথে এই গোষ্ঠীটি যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকে সবচাইতে বেশি। তাই গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত গৃহ শিশু কর্মীদের অধিকার নিয়ে আমরা এখন নিয়মিত আলোচনা সভা করছি এটাকে এক প্রকার অগ্রগতি মনে করতে হবে। কেননা গৃহশিশু কর্মী গোষ্ঠীটির অধিকার নিয়ে নিকট অতীতে তেমন কোন সচেতনতাই ছিল না সবার মধ্যে। এদের অধিকার সুরক্ষার জন্য সকলের মধ্যেই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। এদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং গৃহ শিশুকর্মী কমাতে হলে সরকার এবং এনজিওগুলোকে এক যোগে কাজ করতে হবে, কেননা আইন প্রণয়ন করে রাতারাতি এটা কমানো সম্ভব না।

টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির বলেন, সরকার আইএলও কনভেনশন ১৮৯ এখনো অনুমোদন না করলেও শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। তবে তা বাস্তবায়নের অভাবে খুব একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে না।

শাপলা নীড় বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমোকো উচিয়ামা বলেন, শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত নীতিমালার বাস্তবায়ন না করলে তাদের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল হক বলেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটার কারনে শিশুশ্রম আগের থেকে অনেকখানি কমে গিয়েছে। আগে আমাদের চারপাশে যতটা শিশুকে কাজ করতে দেখা যেত তা এখন আর দেখা যায় না। সেই সাথে প্রাতিষ্ঠানিক কলকারখানায় শিশুশ্রম নির্মূলে সরকার অধিক গুরুত্ব প্রদান করায় দেশে শিশুশ্রম আগের তুলনায় এখন অনেক কম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস গভরনেন্স এন্ড চাইল্ড প্রটেকশন ডিরেক্টর আব্দুল্লা আল মামুন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য কাজ করলেও গৃহ শিশু কর্মীদের বিষয়টি সেখানে উপক্ষিত থাকছে। এই জন্য গৃহ শিশু কর্মীদের আইনগত স্বীকৃতি খুবই দরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধের জন্য প্রথমে দরকার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। আর এই জন্য প্রয়োজন ব্যাপক আকারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ ।


আরো সংবাদ

টেস্টেও সেরা দশে বাবর বিজয়ের স্বপ্ন পূরণে সমৃদ্ধ আগামীর পথে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে : শিবির সভাপতি সোহরাওয়া‌র্দি‌তে ফি‌রে এ‌লো সেই ঐতিহা‌সিক বিজয় মুহূর্ত আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ অশান্ত পশ্চিমবঙ্গ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ৮ কোম্পানি বাহিনী যত জোরে সম্ভব তত জোরে পিটিয়েছি : হেটমায়ার ধামরাইয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত, মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্বধনা মঞ্চে বসার চেয়ার না পাওয়ায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট আ’লীগ সভাপতির সরকার ফেলে দিলেও মাথা নোয়াব না : মমতা ‘সেঞ্চুরি না করলে তো দল থেকে বাদ দিয়ে দেবে’ উপজেলা চেয়ারম্যানের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী, অনুষ্ঠান বর্জন আ’লীগের একাংশের

সকল




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik