২১ জুলাই ২০১৯

মিরপুর চিড়িয়াখানায় যেভাবে হারিয়ে যায় শিশুরা (ভিডিও)

-

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় মা-বাবার হাত ফসকে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা। ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরাদের মধ্যে যারা শিশুদের নিয়ে আসেন তারাই এই বিড়ম্বনায় পড়ছেন প্রতিনিয়ত। তবে আশার কথা হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া এই শিশুরা কিছু সময়ের মধ্যেই আবার ফিরেও যাচ্ছে মা-বাবার কোলে।

মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথের কাছেই তথ্য কেন্দ্র থেকে জানা গেছে শিশু হারিয়ে যাওয়ার এই চকমপ্রদ তথ্য। তথ্য কেন্দ্রের রেকর্ড বুক থেকে জানা গেল ঈদের পরে (দ্বিতীয় দিনে) একদিনেই চিড়িয়াখানা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ২৪ শিশু। পরে তথ্য কেন্দ্রের মাইকে (খুঁজে পাওয়া) এই শিশুদের নাম বলে ডাকা হয় মা-বাবাকে। তারা এসে নিয়ে যাচ্ছেন আদরের সন্তানকে।

মিরপুর চিড়িয়াখানার তথ্য কেন্দ্রের রেকর্ডকিপার মো: শামেস আলী নয়ন এই প্রতিবেদককে জানান, চিড়িয়াখানায় এসে শিশুরা হারিয়ে যাওয়া এটা নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিন এই ঘটনা ঘটছে। তবে এতে বাবা-মায়েদের আতঙ্কিত হওয়া বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। হারিয়ে গেলেও কোন শিশুই এই কম্পাউন্ডের বাইরে যেতে পারে না। চিড়িয়াখানার নিজস্ব গার্ড, আনসার কিংবা অন্য দর্শনার্থীরাই হারিয়ে যাওয়া শিশুকে আমাদের তথ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। পরে আমরা শিশুটির নাম অথবা তার বাবা-মায়ের নাম বলে মাইকে ঘোষণা করি। পুরো চিড়িয়াখানায় সাইন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা আছে। সব এলাকাতেই মাইকের শব্দ পৌঁছায়। আর শিশুর মা বাবাও কিছু সময়ের পরেই তার শিশুকে ফিরে পাচ্ছেন। কাজেই এটি নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু নাই।

চিড়িয়াখানার এই কর্মী মনে করেন, নিরপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকার কারণে সাময়িক কোন শিশু হারিয়ে গেলেও সেখানে কোন বিপদ ঘটছে না।

রেকর্ড রুমের তালিকা থেকে আরো জানা গেল ঈদের দিন অর্থাৎ ৫ জুন চিড়িয়াখানা থেকে হারিয়ে যায় ২ শিশু, ৬ জুন ২২ শিশু, ৭ জুন ২৪ শিশু, ৮ জুন ১৪ শিশু, (৯ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ) ১০ জুন ৩ শিশু। এভাবে প্রতিদিনই হারিয়ে যায় আবার ফিরেও আসে শিশুরা।

চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ডা: ওয়ালিউর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, প্রত্যেক বাবা-মাকে শিশুদের সাথেই হাত ধরে রাখতে হবে। তবে অনেক সময় শিশুরা একান্ত মনে পশু-পাখি দেখায় মশগুল থাকে তাই বাবা মাকে হারিয়ে ফেলে। শিশুরা হারিয়ে গেলে মা বাবাকে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা কোন শিশুই হারাবে না। তারা সরাসরি তথ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করলেই সন্তানকে পেয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য প্রতি মাসে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ দর্শনার্থী মিরপুর চিড়িয়াখানায় স্বপরিবারে আসেন। এই হিসেবে বছরে প্রায় ত্রিশ লাখ দর্শনার্থী আসেন চিড়িয়াখানায়। বিনোদন কেন্দ্রটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার । তবে রোববার সরকারি ছুটির দিন হলে খোলা থাকে এটি। সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩০ টাকার টিকিটে প্রবেশ করা যায় চিড়িয়াখানায়। দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কোনো টিকিট লাগে না।

ভিডিও

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi