২৫ মে ২০১৯

শম্পার যে কথা শুনে দৌড়ে ছাদে গিয়ে ছিলো নুসরাত

নিহত নুসরাত (বাঁয়ে), অধ্যক্ষের ভাইরার মেয়ে পপি - সংগৃহীত

নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা কতো দীর্ঘ ছিলো, তা সময়ের সাথে সাথে প্রকাশ হচ্ছে। ভেতরে কতটা আঘাত লাগলে পরীক্ষার হল থেকে একজন দৌড়ে ছাদে যেতে পারে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল হত্যাকারীরা। এই হত্যার জন্য পোষাকে যেমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল তেমনি পাল্টানো হয়েছিল নাম। আর ছদ্মনাম নাম নিয়ে অধ্যক্ষের ভাইরার মেয়ে পপি হয়ে গিয়ে ছিলো শম্পা। যার এক কথা শোনে পরীক্ষার হল থেকে দৌড়ে ছাদে গিয়ে ছিলো নুসরাত।

শুক্রবার রাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে উম্মে সুলতানা পপি। সে শম্পা ছদ্মনামে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।

পপি ওই দিন বোরখা, কালো নেকাব ও কালো চশমা পরিহিত ছিল। সে পরীক্ষার হলে গিয়ে নুসরাতকে বলেছিল, ‘আমি শম্পা—ছাদে তোমার বান্ধবী নিশাতকে কারা যেন মারধর করছে। তুমি দ্রুত চলো।’ এ কথা শুনে নুসরাত দ্রুত দৌড়ে শেল্টার হাউসের ছাদে যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন শাখাওয়াত, জাবেদ হোসেন ও মণি। এখানে মণি ও পপি নুসরাতের হাত-পা তার ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে। এতে বাকিরা সহযোগিতা করে। পরে তার গায়ে কেরাসিন দেয় শামীম আর আগুন দেয় জাবেদ। ঘটনার পর হট্টগোলের মধ্যে পপি ও মণি আবার নিচে নেমে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পপিকে আদালতে নেয়া হয়। তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদ। রাত ৯টায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। এর আগে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পপি জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে সে নুসরাত হত্যা পরিকল্পনায় অংশ নেয়।

মামলার আরেক আসামি ও কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত জাবেদ হোসেনকেও সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে আনা হয়। কিন্তু আদালতে আসার পর সে বয়ান দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক শরাফ উদ্দিন তিন দিন মঞ্জুর করেন।

এছাড়া একইদিন বিকেল ৫টার দিকে পৌর সদরের তাকিয়া রোডের বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে আটক করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে রুহুল আমিনের নাম এসেছে। শামীমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার ছয় সেকেন্ডের কথোপকথনের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। তবে নুসরাত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে রুহুল আমিনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই পিবিআই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, শামীম জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে, নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পর বিষয়টি সে রুহুল আমিনকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিল। তখন রুহুল আমিন তাকে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, রুহুল আমিনকে আটকের আগে কয়েক দিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। গত দুই দিন তিনি বাড়ি থেকে তেমন একটা বের হননি। সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে দলীয় কার্যালয়েও তাকে দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল মাদরাসার একটি কক্ষে তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়ও যোগ দেননি রুহুল আমিন।

এর আগে একই অভিযোগে সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় বোরকা ও নেকাব পরা চারজন তাকে বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়।

গত ১০ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হামলায় সরাসরি জড়িত চারজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জবানবন্দি দিয়েছে পাঁচজন। আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের রিমান্ড চলছে।


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa