২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নিয়ে তোলপাড়

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী - ছবি : সংগৃহীত

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘চাঁদাবাজি’র মামলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাদির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনায় পড়েছে মিরপুর থানা পুলিশের ভূমিকা। বানানো মামলা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে খোদ পুলিশ বাহিনীতেও। আর সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

গত ৪ সেপ্টেম্বর পরিবহন শ্রমিক দুলালের দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ‘বাদি আসামিকে চেনেনই না, অথচ আসামি কারাগারে’ এমন শিরোনামে গণমাধ্যমে এই মামলা নিয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বেরিয়ে আসে এ ঘটনার মূল রহস্য। মঙ্গলবার বাদি পরিবহন শ্রমিক দুলাল গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আসামিকে (মোজাম্মেল হক চৌধুরী) চেনেনই না। মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মিরপুর শাখার সভাপতি আবদুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন টাইপ করা একটি সাদা কাগজে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান বানানোর কথা বলে তার স্বাক্ষর নেন। 

‘চাঁদাবাজির’ আলোচিত এই মামলার বাদির বক্তব্যের পর মিরপুর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সব মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়। বিষয়টি শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নজরে আসে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সব সময়ই সাধারণ মানুষের পক্ষে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যায়, অতি উৎসাহী হয়ে এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া উচিত নয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। 

এ দিকে মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগে করে বলেন, তাকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ করতে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মোজাম্মেল হকের মুক্তিসহ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা। 
মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিরাপদ সড়কের দাবি ও যাত্রীদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন, বিভিন্ন সভা-সেমিনারসহ সড়কে দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে আসছেন।

আরো পড়ুন :

আশুলিয়ায় চাকমা পোশাকশ্রমিক অপহরণ
আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা 

রাজধানী লাগোয়া আশুলিয়া থেকে নিউটন চাকমা নামে এক পোশাকশ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা নিউটনের স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। 

গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় আশুলিয়ার বাইপাইল স্ট্যান্ডে একটি সাদা মাইক্রোবাসে টঙ্গী যাওয়ার কথা বলে নিউটন চাকমাকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইলে অপহরণকারীরা এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় স্ত্রী সিমা চাকমা পাঁচ হাজার টাকা একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করেন। বাকি টাকার জন্য সময় নেন। অপহৃত নিউটন রাঙ্গামাটি জেলার জোড়াছড়ি থানার চুমাচুমি এলাকার অনিল কুমার চাকমার ছেলে। তিনি গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। আশুলিয়ার ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার শরীফুল ইসলামের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তার স্ত্রী সিমা আক্তার ডিইপিজেড পোশাক কারখানার শ্রমিক।

এ ব্যাপারে অপহৃতের স্ত্রী সিমা বলেন, তার স্বামী নিউটন চাকমা গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজে যোগদানের জন্য বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৬টায় আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় একটি সাদা মাইক্রো টঙ্গী যাবে বলে যাত্রী ডাকাডাকি করে। তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য ওই মাইক্রোতে ওঠেন নিউটন। গাড়িতে ওঠার পর তার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে ফোন করে বিকাশে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে কে বা কারা। টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি জিডি করেন তিনি। এছাড়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকার জন্য সময় নেন।

এদিকে অপহৃতকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান রয়েছে বলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ