১৫ নভেম্বর ২০১৮

সেলফি তুলতে গিয়ে লাশ হলেন তিন জন

সেলফি তুলতে গিয়ে লাশ হলেন তিন জন - সংগৃহীত

পরিবার নিয়ে আনন্দ নৌভ্রমণ পরিণত হলো বিষাদে। গোধূলি বেলায় নৌকার ছাদের ওপর সেলফি তুলতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন নিখোঁজ হয়। শনিবার এক কিশোরীসহ তিন নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। তবে এখনো দুজন পুরুষ নিখোঁজ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দলের প্রধান মোঃ নুরুন্নবী ও চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বদরুদ্দোজা বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর কলাম লেখক মোশারফ হোসেন মুসার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন পারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটিও উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উদ্ধার করা হয় পাবনার ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গনির স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলীর লাশ। এরপর উদ্ধার করা হয় ঈশ্বরদী উপজেলার আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম স্বপন বিশ্বাসের মেয়ে সাদিয়া খাতুনের (১২) লাশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চলনবিলের চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল পাইকপাড়া ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে।

নৌকাডুবির ঘটনায় এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এঁরা হলেন, ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন গনি ও ঈশ্বরদী আমবাগান এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম স্বপন বিশ্বাস।

চাটমোহর থানার ওসি মোঃ বদরুদ্দোজা বাবু জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পানিতে নেমে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) তাপস কুমার পাল।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর প্রথম অবস্থায় উদ্ধারকারী কিশোর সুমন হোসেন বলে, ‘আমি ওই নৌকার পেছনে ছিলাম। দুর্ঘটনার সময় আমি প্রথমে মানুষজনকে উদ্ধার করি। ২২ জনের মধ্যে ১৭ জনকে উদ্ধার করি। বাকি পাঁচজন নিখোঁজ ছিল।’

সুমন বলে, ‘মূলত নৌকায় বেড়ানোর সময় নৌকার ছাদের (ছই) ওপর  উঠে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে গিয়ে ছই ভেঙে নৌকাটি কাত হয়ে বিলের পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নৌকার যাত্রীরা নৌকার নিচে চাপা পড়ে অথবা ভেসে যায়।’

আরো পড়ুন : ঈদযাত্রার দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৮
নয়া দিগন্ত অনলাইন (৩১ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৩৬)

এবার ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ১৩ দিনে ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন। আহতহ হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু সড়কপথে নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের এ তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।


গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার এসব তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এবার ১৬ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিন ঈদযাত্রা বলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ২৭৮ জন। আর আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন। দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে সড়কপথে। ওই ১৩ দিনে ২৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার বেশির ভাগই আবার ঘটেছে বাসে। বাস দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক দুর্ঘটনা ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ ছাড়া রেলপথে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ এবং নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন এখনো। তাদের নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় ধরা হয়নি।

দুর্ঘটনাগুলোর কারণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী বহন, অদক্ষ চালক, মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নসিমন-করিমন চলাচল, বিরতিহীনভাবে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নিরাপদ সড়কের জন্য গঠিত জোট সেভ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের (স্রোতা) আহ্বায়ক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু জবাবদিহির জায়গাটি নিশ্চিত করা হয় না। আমাদের এখানে যাঁরা নীতিনির্ধারণ করেন, তাঁরাই আবার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি। জবাবদিহির ব্যাপারে যে অনাগ্রহ রয়েছে, এর মূলে রয়েছে এই স্বার্থের সংঘাত।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

 


আরো সংবাদ