২১ নভেম্বর ২০১৮

নারায়ণগঞ্জে এবার লাঞ্ছিত ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি

দুর্ঘটনা
রাজধানীতে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্ররা - ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মাঝে পড়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দনশীল লাঞ্ছিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা তার গাড়িচালকের লাইসেন্স দেখতে চায় এসময় চন্দনশীল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন। তার গাড়িচালককে চরথাপ্পড় মারে। গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেন। এসময় পুলিশের দুই কর্মকর্তা চন্দনশীলকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তার পা জড়িয়ে ধরেন। পরে লাইসেন্স দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাড়া পান তিনি। ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় চন্দনশীলের সঙ্গে ঘটনা ঘটার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ঢাকা যাওয়ার পথে জালকুড়িতে চন্দনশীলের গাড়ির চালকের লাইসেন্স দেখতে চায়। এসময় তর্কে জড়িয়ে যান চন্দনশীলসহ তার চালক। চালকের কথায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে চন্দনশীলকে পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন। একজন পুলিশ সদস্য চালকের সিটে বসেন। পুলিশ বলছেন ভাই গাড়িটা সাইডে নিয়ে যাই। রাস্তায় জ্যাম লেগে গেছে। কিন্তু চন্দনশীল উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, কোথায়ও যামু না। আমার ড্রাইভারের গায়ে হাত দিছে! কিন্তু দুই পুলিশ সদস্য তাকে বার বার অনুরোধ করছেন থামানো জন্য। এবং নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করে মোবাইলে কাউকে ফোন করা চেষ্টা করেন।

তখন শিক্ষার্থীরা তার প্রাইভেটকারে আঘাত করতে থাকে। ভুয়া ভুয়া বলে শ্লোগান দিতে থাকে এবং চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে।

একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে কাগজ দেখিয়ে স্থান ত্যাগ করেন চন্দনশীল।

এর আগে গত বুধবার আন্দোলনরত ছাত্রদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে লাঞ্ছিত হন নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা গোপীনাথ দাস।

আরো পড়ুন :
‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজাকারের বাচ্চা’
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০১ আগস্ট ২০১৮
রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা গোপীনাথ দাস। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শিক্ষার্থীরা তার ওপর চড়ায় হলে একটি দোকানে ঢুকে তিনি সাটার বন্ধ করে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরে রাইফেল ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ওই পথ দিয়ে রিকশাযোগে চারাগাছ নিয়ে ফিরছিলেন গোপীনাথ দাস। এ সময় গোপীনাথ দাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজাকারের বাচ্চা’। এর প্রতিবাদ করলে তিনি শিক্ষার্থীদের ধমক দেন।

আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘গোপীনাথ দাস আমাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা নাকি ফাও আন্দোলন করতেছি। শাহ্জাহান খান হেসেছেন সেটা নাকি দোষের নয়।’

এমন মন্তব্যে গোপীনাথ দাসকে ধাওয়া দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরে মারমুখী হয়ে উঠলে দ্রুত রিকশা থেকে নেমে একটি দোকানের ভেতর ঢুকে শাটার নামিয়ে দেন। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ওই দোকানের শাটার ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে দোকানের ভেতর থেকে বের করে আনে। এ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন গোপীনাথ দাস।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গোপীনাথ দাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি করেছেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি শিক্ষার্থীদের ধমক দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা কমান্ডার গোপীনাথের ওপর চড়াও হয় এবং মারমুখী হয়ে ওঠে। পরে গোপীনাথ তার ভুল স্বীকার করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। এরপর শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে গোপীনাথ দাস বলেন, আমি একটা অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলাম। আমার হাতে চারাগাছ ছিল। এ সময় ছাত্ররা আমার রিকশা থামিয়ে ভেতরে যেতে বাধা দেয়। আমি তাদের বেশি কিছু বলিনি।

তাহলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে দোকানে ঢুকে শাটার লাগিয়ে দিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’


আরো সংবাদ