২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে 'সুজন' সম্পাদকের বাড়িতে হামলা

বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন - ছবি : সংগৃহীত

এনজিও সুশাসনের জন্য নাগরিক 'সুজন'-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে শনিবার রাতে হামলা করা হয়েছে। হামলাটির সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ঐ বাসা ছেড়ে যাচ্ছিলেন।

বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বিদায় উপলক্ষে বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যখন বদিউল আলম মজুমদারের বাসা ত্যাগ করছিলেন তখন কয়েকজন যুবক রাষ্ট্রদূতের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে বলে জানান বদিউল আলম মজুমদার। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, "রাত এগারোটা সময় রাতের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যখন উনি গাড়িতে উঠছিলেন তখন একদল লোক হামলা করে।"

হামলাকারীরা রাষ্ট্রদূতের গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে ঢিল ছোঁড়ে বলে জানান বদিউল আলম মজুমদার।

তবে মোহাম্মদপুর থানার সাথে যোগাযোগ করা হলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার কোনো খবর তাদের কাছে নেই বলে জানান কর্মকর্তা।

বিবিসিকে বদিউল আলম মজুমদার জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়ি চলে যাওয়ার পর তার বাসাতে হামলা চালানো হয়।

"তারা আমার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। না পারায় ইট-পাটকেল ছুঁড়ে জানালার কাঁচ ভেঙেছে", বলেন মি. মজুমদার।

বদিউল আলম মজুমদারের ভাষ্য অনুযায়ী ১০-১৫ জন যুবক হামলাটি চালায়।

পুলিশ কী বলছে?
এ ঘটনায় জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে পুলিশের সহায়তা চান বদিউল আলম মজুমদার।

মোহাম্মদপুর থানার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মো: রাজিব মিয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ইকবাল রোডের একটি বাসায় দুর্বৃত্তরা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে - ৯৯৯ থেকে এমন একটি খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার টহল দলকে সেখানে পাঠানো হয়।"

পুলিশ কর্মকর্তা রাজিব মিয়া জানান ঘটনার সত্যতা যাচাই করার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সিনিয়র অফিসাররা সেখানে পরিদর্শনে যান।

এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান মিয়া।

আরো পড়ুন :

ঐক্যের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করব : ড. কামাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা জনগণের ঐক্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অতীতে সব সময় আমরা ঐকবদ্ধ আন্দোলন করে জনগণের দাবি আদায় করে নিয়েছি। তাই সামনের দিনে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নেবো ইনশাআল্লাহ। 

গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। 
ড. কামাল হোসেন কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঐক্যের বিজয় সব সময়ই হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সুনিশ্চিত করতে অলোচনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণফোরামের প্রস্তাবিত সাত দফা, লক্ষ্য ও কর্মসূচির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শ্রেণিপেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে স্বৈরাচারবিরোধী জাতীয় ঐক্য গঠনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি দলে গতকালের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি। 

ড. কামাল হোসেন বলেন, এ সরকারের প্রতি ষোল আনা অবিশ্বাস জন্মাচ্ছে। সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তাদেরই জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে, তারা নিরপেক্ষ। তাদেরই প্রমাণ করতে হবেÑতারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারে। 

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেউ আশা করেনি। এখানেও তারা দু’নম্বরী করেছে। বঙ্গবন্ধুর নামে তারা এসব করছে। তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করছে। তিনি প্রশ্ন করে এটা কোন আওয়ামী লীগ? তিনি বলেন, এটা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ না। 

তিনি বলেন, এ ধরনের নির্বাচন কমিশনের ওপর এখন কারো আস্থা নেই। তাদের দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করা যায় না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তো বিচারকের ভূমিকায় থাকবে। একজন বিচারক তো পক্ষপাতিত্ব করতে পারেন না। তাদের তো নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চান জনগণ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তো এখানে সাক্ষী গোপালের মতো আছে। তাদের তো সব কিছুতে সব ঠিক সব ঠিক বলার মতো অবস্থান জনগণ আশা করে না। 
এ দিকে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, গতকাল দলের বর্ধিতসভায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সন্ত্রাস, গুম, খুন বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে আটক ও জেল জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। এবং ভিন্ন মতের কাউকে নির্বিগ্নে সভা সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আ ও ম শফিকউল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান, অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, জামালউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপিকা বিলকিস বানু, মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, মোশতাক আহমেদ, আলী নুর বাবুল, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।


আরো সংবাদ