২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রমিজ উদ্দিন কলেজকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ বাস

-

যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলছে, সেই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে পাঁচটি বাস দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

আজ শনিবার সকালে বাসগুলো পাওয়ার পর এই কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব।

তারপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা; শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি বাস দেওয়ার ঘোষণাও বৃহস্পতিবার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূইয়া বাসগুলো ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল ও কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সরোয়ার হাসানের কাছে হস্তান্তর করেন।

পাঁচটি বাসের মধ্যে একটি দ্বিতল, একটি ৩০ আসন বিশিষ্ট কোস্টার, বাকিগুলো একতলার।

বাস পাওয়ার পর কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন সাংবাদিকদের সামনে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান।

তাতে বলা হয়, ওই দুর্ঘটনায় যে আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন, তাদেরকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। চারজনকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনের অবস্থা উন্নতির দিকে।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য বাস দেওয়া হয়েছে। একজন অভিভাবক, শিক্ষক বা মা হিসেবে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে ও অতি সত্ত্বর বাস্তবায়িত হবে।’

“শিক্ষার্থীদের বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ফিরে যাও। পড়াশোনায় মনযোগী হও। তোমাদের জন্য সড়ক নিরাপদ করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারও গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়ন এবং ২০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে এলেও তারা শুক্রবারও সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষোভের মধ্যে কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ চড়াও হয় পুলিশ, তাদের সঙ্গে কোথাও কোথাও যুবলীগ-ছাত্রীলীগের কর্মীরাও হামলায় অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।


আরো সংবাদ