২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সেই স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নিয়ে সাকিব যা বললেন (ভিডিও)

দুর্ঘটনা
সাকিব আল হাসান - ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়ে দেয়া একটি স্ট্যাটাস ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওই স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি তার ভক্তদের তাকে ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণার কথা লিখেন। তবে সাথে সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানান। এ নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। ফলে সমালোচনার মুখে পোস্টটি ডিলিট করে কালই নতুন পোস্ট করেন সাকিব।

নতুন দেয়া স্ট্যাটাসে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সাকিব। ভিডিও বার্তার ওপরে ক্যাপশনের জায়গায় বাংলা ও ইংরেজিতে কিছু কথা লিখেছেন সাকিব। এখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার সকল ভক্তদের জানাচ্ছি যে আপনারা হয়তো আমার ব্যক্ত করা কথায় আমাকে ভুল বুঝছেন। দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমারও আপনাদের সবার মতো পরিবার আছে, যাদের নিরাপত্তা আমার কাছেও অনেক বেশি মূল্যবান। আমি আপনাদেরই একজন, আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতেও থাকব। আমি শুধু বলতে চাই যে আপনাদের আন্দোলনকে একটি সঠিক ফলাফলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের সরকার কে সুযোগ দেওয়া উচিত, যেন সরকার খুব দ্রুত আপনাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারে।’

ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘আমি তোমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। আবারও তোমাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এটাও বলতে চাই, এটা শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি হওয়া উচিত নয়, এটা সকল মানুষের দাবি হওয়া উচিত। এ কারণেই সকল শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিতে চাই যে তোমরা আমাদের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছ।’

এরপর সাকিব অবশ্য আগের কথাই বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত আছেন। তিনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং করছেন। যা বাস্তবায়ন হতে হয়তো একটু সময় লাগবে। আমাদের উচিত হবে সকল শিক্ষার্থীদের এটা এখন বোঝানো যে তাঁদের ক্লাসে ফিরে যেতে। ঠিকমতো পড়াশোনায় আবার মনোনিবেশ করতে। এই দাবি যদি পূরণ না হয় এবং ভবিষ্যতে যদি আমাদের এই আন্দোলন আবার করতে হয় তোমরা আমাকে সব সময় পাশে পাবে, এই ওয়াদা আমি করছি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেখান থেকে এ আন্দোলনের ওপর চোখ রাখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। অধিনায়ক সাকিব তার আগের ফেসবুক পোস্টে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দাবি কার্যকর হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও নিরাপদ সড়ক আইন করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। এ অবস্থায় তোমাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, ক্লাসে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে। তোমরা যা করেছ, তা এ দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে। এ অর্জন সফল হবে তোমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে।’

কিন্তু সাকিবের এই পোস্টে প্রচুর নেতিবাচক মন্তব্য এসেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার এই আহবান। বেশির ভাগ মানুষই তা দেখেছেন নেতিবাচক দৃষ্টিতে।

দেখুন ভিডিওতে : 

আরো পড়ুন :
সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি ইলিয়াস কাঞ্চনের
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপদ সড়কের জন্য আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সরকারকে রোববার থেকে নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের শর্ত দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক মানববন্ধন ও সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি। এতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা যোগ দেন।

মানববন্ধনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ আগামী রোববার থেকে শুরু করতে হবে। যদি এটা না হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের সাথে আমি নিজেও আন্দোলনে থাকব এবং রাস্তায় নামব।

সমাবেশে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শিক্ষার্থীদের যে দাবি আপনারা মেনে নিয়েছেন, তা শুক্রবার ও শনিবার হয়তো কার্যকর করা সম্ভব নয়। কিন্তু রোববার থেকেই যেন আমরা দেখতে পাই সেই কাজগুলোতে আপনারা হাত দিয়েছেন। প্রথম কাজ হলো, যারা নিয়মশৃঙ্খলার জন্য রাস্তায় থেকে গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করেন তাদের লাইসেন্স ঠিক করা। কারণ তাদের নিজেদেরই লাইসেন্স নেই। তাদের ডিপার্টমেন্ট, মন্ত্রণালয় থেকে যেন নির্দেশনা আসে তাদের লাইসেন্স ঠিক করার জন্য। যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারাই উল্টোপথে গাড়ি চালাচ্ছেন। তারা বলেন, আমরা আর করব না, আমরা দুঃখিত। আমরা সন্তানদের কাছ থেকে শিখেছি আমরা আর করব না, বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও। এভাবে বলেন, নিশ্চয় আমাদের সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে। আপনারা যদি কাজ শুরু করে দেন তাহলে আমি অবশ্যই বলব আমার সন্তানরা যেন ঘরে ফিরে যায়।

আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমার সন্তানদের আমি বলতে চাই, তারা যেন একটি গাড়িও ভাঙচুর না করে। কারণ ভাঙচুরের কারণে সুযোগসন্ধানীরা ১০টি বা ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করবে। বাবারা-মায়েরা, তোমরা খেয়াল রাখবে তোমাদের আন্দোলন কেউ যেনও বানচাল করতে না পারে। তোমাদের মধ্যে যেন অপশক্তি ঢুকে না যায়, এটা লক্ষ রাখতে হবে। সুশৃঙ্খল, সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজটি করে যাও। আমি আছি তোমাদের পাশে এবং থাকব। এ দেশের মানুষের জন্য যতদিন সড়ক নিরাপদ না হবে, শেষ রক্তবিন্দু যতদিন থাকবে, শেষ নিঃশ্বাস যতদিন থাকবে, এ সংগ্রাম চালিয়ে যাবো ইনশা আল্লাহ।

তিনি বলেন, সব অধিদফতর যদি তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয় তাহলে আমার সন্তানদের উদ্দেশে বলব, তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে, লেখাপড়া করবে। বাবা-মায়ের কাছে থাকবে। প্রয়োজনে আবারো যদি কোনো অসুবিধা হয়, তখন অবশ্যই আমরা তোমাদের সাথে থেকে আবার রাজপথে নামব।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এ আন্দোলনে আপনারাই প্রধান সৈনিক। এ আন্দোলন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজেদের সন্তানদের পাশে থাকুন। আপনারা অস্থির হয়ে যাবেন না। ভালো কিছু পাওয়ার জন্য অনেক সময় কষ্ট স্বীকার করতে হয়। আপনারা খেয়াল করবেন যেন কোনো সুযোগসন্ধানী এ আন্দোলন বানচাল করতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক দিকে আমাদের সন্তানদের ঘরে যেতে বলছেন, অন্য দিকে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্মঘট করছেন। তাহলে কোনটা চলবে?

বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা মানববন্ধন ও সমাবেশ চলে। তবে সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তার দুই পাশ বন্ধ করে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme