২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মিমের বাবাকে কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

মিমের বাবাকে কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী - সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তার শুরুটা বিমানবন্দরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরী হয়েছে। নিহতদের একজন কলেজছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে তার মনের কথা খুলে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার সাথে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার ধারণা পাল্টে গেছে। মিমের বাবা অাগে জানতেন না শেখ হাসিনা এত সহজ, সরল, সাধারণ মানুষ, একেবারেই গ্রামের মানুষ, মাটির মানুষ।

মিমের বাবা জাহাঙ্গীর বলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০টি দাবি করেছি। বিশেষ করে ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের সামনে ওভারব্রিজ অথবা অান্ডারপাস দেয়ার কথা বলেছি। ঢাকার ভেতরে এবং বাইরের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য অালাদা বাস সার্ভিস, দ্বিতলবিশিষ্ট বাস সার্ভিস দাবি করেছি। এটা হলে অভিভাবকদের অার কোনো টেনশন থাকবে না।

‘প্রধানমন্ত্রী অামাকে বলেছেন, ড্রাইভার ও মালিককে অাটক করা হয়েছে। ওনাদের বিচার হবেই। ইতোমধ্যে গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করেছি।’

‘অামি প্রধানমন্ত্রীকে অারও বলেছি, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ড্রাইভার যেন গাড়ি না চালায়, ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে লেগুনা চালানো হয়, যাদের বডির ফিটনেস গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স কোনোটাই নেই। যতদিন স্কুল-কলেজের সামনে ফুটওভারব্রিজ না হবে ততদিন বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ শিক্ষার্থীদের পার করে দেবে। অামার মেয়ে দিয়া ও অপর শিক্ষার্থী করিম যে জায়গায় অ্যাকসিডেন্ট করেছে, সেখানে দ্রুত একটি ওভারব্রিজ করলে অার দুর্ঘটনা ঘটবে না। যে ১০টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে করেছি তার প্রত্যেকটি দাবি মেনে নেবেন বলে অামাকে কথা দিয়েছেন তিনি’,- বলেন মিমের বাবা।

এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ, মাটির মানুষ, তার ব্যবহারে খুব খুশি হয়েছি। অাল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘায়ু দান করুক।

অারেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অামি যে সন্তান হারিয়েছি তাকে তো অার ফেরত পাবো না। তবে অামার মেয়ের সহপাঠীরা যারা অান্দোলন করছে, তাদের বলবো বাবারা তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের অান্দোলনে কেউ ঢুকে অন্য কারও মায়ের কোল খালি হোক তা অামি চাই না। তোমাদের যে দাবি, অামি প্রধানমন্ত্রীকে সব বলেছি।

প্রধানমন্ত্রী অামাকে অাশ্বাস দিয়েছেন। তোমরা ঘরে ফিরে গিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দাও। অার অামার মিম ও করিমের জন্য দোয়া কোরো। আল্লাহর রহমতে অামরা ভালো বিচার পাবো। অামি এক সন্তান হারিয়েছি। যারা অাছে তাদের যেন মানুষ করতে পারি এজন্য প্রধানমন্ত্রী অামাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অামাদের দুই পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনে দিয়েছেন। গুলশানের একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছেন। ওখান থেকে প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা পাবো, যা দিয়ে অামার সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারবো। এ ছাড়া অামার বাকি সন্তানরা লেখাপড়া শেখার পর চাকরির অাশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাহাঙ্গীর বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, অামাকে এত সময় দেবেন ভাবতেই পারিনি। এছাড়া অামাদের জন্য দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। অামার এই দুঃসময়ে অামাদের দুটি পরিবারের পাশে উনি যেভাবে দাঁড়িয়েছেন তাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

আরো পড়ুন : পদত্যাগ না করার কারণ জানালেন নৌমন্ত্রী

পদত্যাগ না করার কারণ জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্ররা আমার পদত্যাগ দাবি করেনি। বিএনপি আমার পদত্যাগ দাবি করেছে। কাজেই আমার পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। জনগণ যদি আমার পদত্যাগ দাবি করে এবং আমি পদত্যাগ করলে যদি সমস্যার সমাধান হয় , তাহলে আমি পদত্যাগ করতে রাজি আছি।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শাজাহান খান।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে  সচিবালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে বসেন শাজাহান খান। এ সংবাদ শুনে সেখানে সাংবাদিকরাও ভিড় করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের  মুখোমুখি হন নৌমন্ত্রী।


শাজাহান খান বলেন, ‘ছাত্ররা ৬ দফা ও ৯ দফার দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের মূল দাবি হচ্ছে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করছি।’

নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পদত্যাগ দাবি করছে বিএনপি। তারা (বিএনপি) তো আমাদের সব মন্ত্রীরই এমনকি সরকারেরই পদত্যাগ দাবি করছে। বিএনপির দাবির মুখে আমি পদত্যাগ করতে পারি না।’

গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিরপুর-উত্তরা রোডের জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর থেকে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে আসছিল। এ সময় ফ্লাইওভারের শেষ দিকে, রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল একদল শিক্ষার্থী। বাসটি ফ্লাইওভার থেকে নেমেই দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আহত হয় চারজন।

নিহতরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান পরিবহন মালিক শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি। দুর্ঘটনার পর সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী শাজাহান খান হেসে এর জবাব দেন। তাঁর হাস্যোজ্জল ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠে। পরে অবশ্য এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি।

 


আরো সংবাদ