১৯ নভেম্বর ২০১৮

ফার্মগেটে পুলিশের গাড়ি আটকে দিল শিক্ষার্থীরা

দুর্ঘটনা
ফার্মগেটে পুলিশের একটি গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা - ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ৪র্থ দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

ফার্মগেটে অবস্থান নিয়েছে সরকারি বিজ্ঞান কলেজসহ আরো ৬-৭টি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে লাইসেন্স পরীক্ষা করতে পুলিশের একটি গাড়িকে আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। কিন্তু গ্লাস আটকে রাখা গাড়ি থেকে কেউ বাইরে কথা বলেনি। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিলে চলে যায় গাড়িটি। আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

চলমান আন্দোলনের জেরে আজ সারা দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজো নেমে এসেছে রাস্তায়। 

রাজধানীর উত্তরায় জসিম উদ্দিন মোড় থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হতে থাকে তারা।

মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করেছে বিএফ শাহীন কলেজের ছাত্ররা। মহাখালী থেকে ফার্মগেট ও সাতরাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করছে তারা।

রামপুরায় ব্রিজ অবরোধ করে লাইসেন্স চেক করছে ছাত্ররা।

মিরপুর শেওড়াপারায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স চেক ও বিক্ষোভ করছে।

গুলশান-২ এ রাস্তা অবরোধ করেছে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও রাজধানীর আরো বিভিন্ন অংশে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ফার্মগেট মোড়ের চিত্র

 

এদিকে, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে আজ বৃহস্পতিবারও রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে গণপরিবহনের দেখা মিলেনি খুব একটা। রাস্তায় দুয়েকটি বাস চলতে দেখা গেছে।

গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে পড়ে অফিসগামী যাত্রীরা। দুয়েকটি গাড়ি চলছে সড়কে। সেগুলোতে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে অনেক ঠেলাঠেলি করে অফিসগামীদের উঠতে হচ্ছে।

মিরপুর-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-সায়েদাবাদ, উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী নিয়মিত বাসগুলো সড়কে প্রায় দেখাই যায়নি। সকালের দিকে দেখা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, রোকেয়া সরণি, প্রগতি সরণি, এয়ারপোর্ট রোডে গাড়ি নেই বললেই চলে। কয়েকটি বাস চলাচল করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য।

রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোও চলাচল করছে না বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে ছুটির পরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আবদুল করিম ওরফে সজীব এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম নিহত হন। তারা রাস্তার পাশের ফুটপাথে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে দু’জন নিহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পথচারীরা সাথে সাথে আহতদের কাছের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর ৯ দফা দাবিতে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুন :
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ
ময়মনসিংহ অফিস
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে ময়মনসিংহ জিলা মোটর মালিক সমিতি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে দিনের বেলা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিলা মোটর মালিক সমিতি। তবে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে রাতে ঢাকামুখি বাস চলাচল করবে। গত রাতে (বুধবার) সমিতির এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মাসকান্দায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী কোনো বাস ছাড়েনি। সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। অবশ্য শহরের পাটগুদাম ব্রিজের মোড় ও টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী সব ধরণের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে কুষ্টিয়াতেও মানববন্ধন বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সারাদেশের মতো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াতেও।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সকাল ১০টার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল ও শ্লোগানসহকারে হাজির হয় কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম মজমপুরগেট এলাকায়। কয়েকশ’ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের দাবী মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয় সেখানে।

সোয়া ১১টার দিখে শিক্ষার্থীরা মজমপুর গেট থেকে মানববন্ধন শেষ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের এনএস রোডের উদ্দেশে রওনা হয়। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবী সম্বলিত পোষ্টার ও ফেস্টুন শোভা পায়।

এতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদিকে গতকাল সকালে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ছেড়ে গেলেও তা বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের কারনে বাধার মুখে পড়েছে।

কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবলু জানান, সকালের দিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে গেলেও ওইসব বাস রাস্তায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া রাস্তায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সবার মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিটিং চলছিল।

২ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় মাগুরায় বিক্ষোভ
মাগুরা সংবাদদাতা
বাসের চাপায় ২ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিচার দাবিতে মাগুরায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে সরকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়র্দী কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ চত্বরে সমাবেশ করে।

আর যেন কোন মায়ের বুক খালী না হয় সেই আহবান করে সড়কে চলাচল নিরাপদ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান সমাবেশে ছাত্ররা।

২ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ
দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও পটুয়াখালীর দুমকিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দুমকি টু বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে দুমকি সরকারি জনতা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বাস দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের ফাঁসি এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে প্রায় ২ ঘন্টা ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ চলতে থাকলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্ঠি হয় তাতে করে দুমকি টু বরিশালের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুমকি থানা অফিসার ইনচার্জ মো.মনিরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উল্লেখ্য গত রবিবার কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গত চার দিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এর ধারা বাহিকতায় সাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন।

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ
ফরিদপুর সংবাদদাতা
রাজধানীর কুর্মিটোলা বিমানবন্দর সড়কে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছে শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে শিক্ষার্থীরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে শহরের মুজিব সড়কে সমবেত হয়ে মানবন্ধন গড়ে তোলে।

তাদের হাতে হাতে রয়েছে হাতে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে ‘চাইলাম বিচার- দিলো ছুটি, হায়রে বাংলাদেশ,’ ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেনো বাইরে?,’ ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, প্রভৃতি শ্লোগান লেখা ছিলো।

প্রায় এক ঘন্টা এসব শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশে মানববন্ধনে দাড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করতে থাকে। এরপর তারা মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অভিমুখে রওনা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের দফতরে ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করে তারা।

এদিকে, ফরিদপুর থেকে ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফরিদপুর থেকে ঢাকার রুটে কোন বাস ছেড়ে যায়নি।

ফরিদপুরের বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য রাকিব হোসেন বলেন, সকাল থেকে কোন বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ঢাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভিন্নস্থানে গাড়ি ভাংচুর করায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফরিদপুর জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়ন (১০৫৫) এর সভাপতি জুবায়ের জাকিরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিনা ঘোষণায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীমুখী যাত্রীরা। অনেকে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।


আরো সংবাদ