২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অন্যায় করলে কোনো আন্দোলনই বিচার থামাতে পারবে না : আইনমন্ত্রী

আনিসুল হক - ছবি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিমান বন্দর সড়কের ফুটপাতে বাস চাপায় নিহত হবার মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা শহর জুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ ব্যাপকতা লাভ করার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা জানালেন।

সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কোনো মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে যাবার কথা নয়। কিন্তু এ নির্দিষ্ট মামলাটি কেন দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর কথা বলছেন আইনমন্ত্রী?

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল আইন আছে। আমরা যে মামলাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি - সেটা মার্ডার কেস, রেপ কেস বা অন্যান্য যে কোন মামলা .... সেটাকে জনগুরুত্বপূর্ণ মনে করলে আমরা কিন্তু সেটাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল বলে একটি আদালত আছে সে আদালতে পাঠিয়ে এটা দ্রুত বিচার করতে পারি।’

বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে বাসচাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হবার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা এ অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত যাতে এরকম অন্যায় আর না হয়।

সে ক্ষেত্রে এ রকম মামলা দ্রুতবিচারে যাওয়া স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন মি. হক।

যারা বেপরোয়া গাড়ি চালায় তাদের একটি বার্তা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

চলমান ছাত্রআন্দোলনের সাথে দ্রুতবিচারের উদ্যোগ নেবার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে যখন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের শাস্তির প্রসঙ্গ আসে তখন তারা রাস্তায় সংঘবদ্ধভাবে নেমে চাপ তৈরি করে। সে বিষয়টি কিভাবে সামাল দেয়া হবে?

এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায় করলে কোনো আন্দোলনই বিচার থামাতে পারবে না।’

আরো পড়ুন :
সব দাবী মেনে নিয়েছি, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিবিসি, ১ আগস্ট ২০১৮
ঢাকায় বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, তাদের সব দাবী মেনে নেয়া হয়েছে।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে অবরোধ তুলে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

গত রবিবার দুপুরের দিকে একটি বাসের চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয় ঢাকায়।

আজ বুধবার তিনদিনের মতো শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের দাবী ছিল দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা, ফিটনেস বিহীন গাড়ী চলাচল না করা, লাইসেন্স-বিহীন গাড়ীর অনুমোদন না দেয়া সহ নয়টি দাবী নিয়ে বিক্ষোভ করছে।

এর প্রেক্ষাপটে আজ স্বরাষ্ট্র, নৌ এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে এক জরুরী বৈঠক করে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো আমাদের সবার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অবরোধ তুলে নিবেন। এবং তারা আবারও ক্লাসে ফিরে আসবেন, পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জোর গলায় বলছি দোষীরা সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে পায় যে জন্য সরকার ব্যবস্থা নিবে। আর তারা বিভিন্ন ভাবে আমাদের কাছে যে দাবী গুলো পৌঁছেছে সেগুলো সবই মেনে নিয়েছি, সেগুলো সবই যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে আমরা সবগুলোর ব্যবস্থা নিবো।’

ঢাকায় গতকাল রাস্তায় বেশ কিছু বাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরম।

আজকেও রাস্তায় বাস চলাচল সীমিত রয়েছে বলে সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন।

গাড়ি ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ সম্পর্কে যা বললেন মন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২৯ তারিখে ১৫০টি গাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে, ৩০ তারিখে ২৫টি গাড়ি, ৩১ তারিখে ১৩৪টি গাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে।

গাড়ী পুড়ানো হয়েছে আটটি, এর মধ্যে পুলিশের এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই যে কোমলমতী ছাত্ররা অবরোধ করছে এই সুযোগে স্বার্থন্বেষী মহল এই ভাংচুর এবং গাড়ী পুড়ানোর কাজগুলো করছে।’

‘কোনক্রমেই ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন এবং রুট-পারমিটবিহীন কোনো গাড়ি আমরা আমাদের শহরে চলতে দেব না’ বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এসময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ