১৫ নভেম্বর ২০১৮

ঢাকায় নেমেই ভোগান্তি

ঢাকায় নেমেই ভোগান্তি - নয়া দিগন্ত

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে শেকড়ের টানে গ্রামে যাওয়া মানুষ গুলো। ট্রেন, বাস বা লঞ্চে করে কর্মব্যস্থ ঢাকায় ফিরছেনবিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। নিজ এলাকা থেকে যানবাহনের ফিরতি টিকিট পেতে বেগ পেতে হলেও মঙ্গলবার হাইওয়েতে তেমন কোন দুর্ভোগে পড়তে হয়নি তাদের। কিন্তু ঢাকায় ফিরেই যানবাহন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে অনেককেই।

যানবাহন সংকট, বাড়তি ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন প্রতারনার শিকার হতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ট্যাক্সি ক্যাব গুলোর দৌরত্ম যেন আগের অবস্থানে ফিরে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সিটিতে চালিত বিভিন্ন রুটের লোকাল ও সিটিং বাস ছিলো অনেক কম। যা পাওয়া গেছে তাও আবার দ্বিগুনের বেশি ভাড়া আদায় করছে। তবে অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তার সংখ্যা ছিলো অনেক কম। তাছাড়া সব ধরনের যাত্রী অ্যাপস ভিত্তিক এই যানবাহনের সুবিধা ভোগ করতে পারেননি। ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অভিযোগ রাস্তায় হাইওয়েতে তেমন কোন অসুবিধা না হলেও ঢাকায় ফিরেই বরাবরের মতই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। গতকাল মঙ্গলবর কমলাপুর রেল ষ্টেশন, গাবতলী বাস ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সুত্রমতে, ঈদুল ফিতরের তিনদিন ছুটি শেষ হয়েছে গত রোববার। সোমবার থেকে শুরু হয় প্রথম কর্মদিবস। তবে ঈদের তিনদিনের সাথে অনেকেই আরো ২/৩ দিন করে ছুটি নিয়েছেন। সে হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার অনেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। কমলাপুর রেল ষ্টেশন, গাবতলী বাস ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। টিকিট বিক্রি সুত্রে পরিবাহন কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী শুক্র-শনিবার পর্যন্ত যাত্রীদের ঢাকামুখী ঢাল থাকবে।

মঙ্গলবার গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের ঢাকায় ফেরার দৃশ্য। ঢাকার বাইরে ঈদ করতে যাওয়া কর্মজীবী মানুষ বিভিন্ন পরিবহনে করে গাবতলী বাস টার্মিনালসহ ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনালে নামছেন। সবার চোখে-মুখে ঈদের আমেজ। কিন্তু রাজধানীর বুকে পা রাখার সাথে সাথেই যেন সেই আমেজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রাজধানীর বাস, রেল ও লঞ্চ টার্মিনাল গুলোতে। দুরপাল্লার বাস, ট্রেন বা লঞ্চ থেকে টার্মিনালে নেমে বাসায় পৌছানোই যেন তাদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর থেকে ঈগল পরিবহনে করে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে গাবতলী পৌছেছেন আরাফাত রহমান। তার বাসা রামপুরায়। তিনি বলেন, গাবতলী থেকে রামপুরা গামী বাস নেই বললেই চলে। অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন উবার কল করেও ভালো রেসপনজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারানা করছেন, যাত্রীর তুলনায় উবারের গাড়ি অনেকম কম রয়েছে। আর এই সুযোগে সিএনজি অটোরিক্সা গুলোও আগের চরিত্রে ফিরে গেছে। দ্বিগুন ভাড়া নেয়ার পাশাপাশি তাদের পছন্দমত যায়গা ছাড়া কেউ যেতে চাইছে না। বাস থেকে নেমে প্রায় আধা ঘন্টা তিনি যানবাহনের জন্য ছুটাছুটি করছেন।

গোপালগঞ্জ থেকে কমফোর্ট লাইন পরিবহনের একটি বাসে করে গাবতলী টার্মিনালে পৌছানো আরিফুর রহমানের বলেন, অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন আসার পর সিএনজি অটোরিক্সা বা ট্যাক্সি ক্যাব গুলোর দৌরত্ম কমে গিয়েছিলো। কিন্তু ঈদের পর যাত্রীদের প্রয়োজনের তুলনায় অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন কম হওয়ায় সিএনজি অটো চালকদের খামখেয়ালী আগের মতই রূপ নিয়েছে। চালকদের পছন্দমত যায়গা না হলে তারা যেতে চায় না এবং যেতে চাইলে ভাড়া দ্বিগুন নয় তিন-চার গুন বেশি দাবী করছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাস ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কিছু কিছু বাস চললেও সে গুলো চালক ও হেলপাররা মালিকদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কণ্ট্রাকে চালাচ্ছে। এতে করে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আদায় করছে। যাত্রীদের অনেকেই যানবাহনের জন্য দাড়িয়ে আছেন বাস টার্মিনালের আশপাশের রাস্তায়। গামতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া ৮ নম্বর পরিবহনের হেলপার রাশেদ বলেন, ঈদের কয়েকদিন আগের নিয়মে বাস চলবে না। কারণ এই বাস গুলো চালক ও হেলপাররা মালিকদের এককালিন টাকা দিয়ে কণ্ট্রাকে ভাড়া নিয়ে রাস্তায় চালাচ্ছেন। কারণ এই সময়ে বেশির ভাগ চালক ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে যান। মালিকরা গাড়ি চালানোর লোক না পেয়ে বাস বসিয়ে রাখেন। যে কজন চালক ঢাকায় থাকেন তারা ভাড়া নিয়ে গাড়ি চালান।

অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন উবারের চালক সেলিম জানান, ঈদের সময় বেশির ভাগ চালকই গ্রামে চলে গেছে। যে যানবাহন গুলো রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যার কারনে অনেকেই হয়তো সময়মত যানবাহনের সেবা পাচ্ছেন না। তবে তারা চেষ্টা করছেন যাত্রীদের সাধ্যমত সেবা দেয়ার।


আরো সংবাদ