২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গায়নি কেন ?

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গায়নি কেন ? - সংগৃহীত

বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটারদের । মূলত আফগানিস্তানের সাথে পরাজয়ের পরেই এই প্রশ্নটা মোটা দাগে সামনেেএসেছে। আর এমন হারের পর প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।  তবে শুধু ম্যাচ নয়, ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়েও একটি বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সময় খেলোয়াড়দের কেউ কেউ যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। এরই ব্যাখ্যা দিলেন মাহমুদউল্লাহ।

জাতীয় দলের সিনিয়র এই ব্যাটসম্যান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‌‘রোববারের প্রথম টি-টোয়েন্টি টিভিতে দেখেছেন, এমন সমর্থকদের কেউ কেউ হয়তো ভুল বুঝেছেন। দুই দলের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় বাংলাদেশের দলের কজন খেলোয়াড়ের মুখে বিভ্রান্তির ছায়া দেখে এই ভুল-বোঝাবুঝি। সত্যিটা হলো, আফগানিস্তানের জাতীয় সংগীত মাঠ থেকে ঠিকমতো শোনা গেলেও কোনো কারণে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত শোনা যাচ্ছিল না। খেলোয়াড়েরা অপেক্ষা করছিল কখন জাতীয় সংগীত শুরু হবে। ততক্ষণে আসলে জাতীয় সংগীত শুরু হয়ে গেছে, টিভিতে দর্শকেরা শুনতে পাচ্ছিল। কিন্তু আমরা খেলোয়াড়েরা তা শুনতে পাচ্ছিলাম না।’

কাল ম্যাচ শুরুর আগেই সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা জাতীয় সংগীতের সময় যথেষ্ট ‘সিরিয়াস’ ছিল না। ম্যাচ হারের পর এ নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। তবে আজ মাহমুদউল্লাহ বিষয়টি পরিষ্কার করলেন।

এমনিতে ভারতের দেরাদুনকে চলমান এই সিরিজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকেরাও প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে এখানে কখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রেসবক্সে যে ন্যূনতম সুবিধাগুলো থাকে, তার অনেক কিছুই প্রেসবক্সে নেই। এমনকি প্রেসবক্সে অফিশিয়াল স্কোরারও নেই। সাংবাদিকদের দুই দলের একাদশ বা স্কোর সরবরাহ করা হয় না। ম্যাচ পূর্ব ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনগুলো বিশৃঙ্খল হচ্ছে। অব্যবস্থাপনার চিত্র সবখানে। মাহমুদউল্লাহর দাবি অগ্রাহ্য করার উপায়ও তাই নেই।

আফগানিস্তানের সাথে হারের কারণ বললেন সুজন

রোববার রাতে আফগানদের দেওয়া ১৬৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমে গিয়েছে ১৯ ওভারে ১২২ রানেই। খেলতে পারেনি পুরো ওভার। আফগানিস্তান কী এমনই ভয়ংকর দল হয়ে উঠল বাংলাদেশের জন্য! এর পেছনের কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের মানসিকতাকেই দায়ী করছেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘আমরা ছেলেদের নিয়ে খুব হতাশ। এত অনুশীলন করানো হয়, এত কিছু হয়। তবুও তারা কেন মাঠে এসে করে দেখাতে পারে না, তা আমার জানা নেই। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, সততার সঙ্গে যদি, বলি, খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে শক্ত নয়।’

মানসিকভাবে কোথায় বাংলাদেশ পিছিয়ে গিয়েছে, আর আফগানরা এগিয়ে গিয়েছে? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই সাবেক তারকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১০৫। শেষ ৪ ওভারে রান ৬২! এই চার ওভারেই তো বোঝা যায় খেলোয়াড়দের মানসিক পার্থক্য। মাহমুদ বলছেন, ‘শেষ ৪ ওভারে রাহী (আবু জায়েদ), আবুল হোসেন ও রুবেলরা ৬২ রান দিয়েছে। অথচ তার দুই ওভার আগেই রিয়াদ দুই উইকেট নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। সেখান থেকে আমরা যেভাবে বল করলাম আর তারা যেভাবে ব্যাট করল, এটা মানসিক চাপ ছাড়া তো কিছুই নয়।’

৪৫ রানে হেরে যাওয়া ম্যাচেও লড়াই যা করার করেছেন দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা। মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব বল হাতে লড়েছেন। আর ব্যাটিংয়ে তরুণ লিটন ছাড়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকই। বোঝাই যাচ্ছে, এখনো দলের কান্ডারি সেই সিনিয়াররাই। কিন্তু এভাবে চলতে থাকাটা যে অশনিসংকেত, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘সাকিব যেভাবে পরিকল্পনা করে খেলে বা ম্যাচ রিড করে, অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যেও এটা আছে। এই সিনিয়রগুলো যদি হঠাৎ করে সরে যায়, এদের আমরা না খেলাই, তাহলে বাংলাদেশ কিন্তু খুবই সাধারণ একটা দল।’

তবুও সবকিছু শেষে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি মনে করেন, সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলে সিরিজে ফেরা সম্ভব।


আরো সংবাদ