২৩ অক্টোবর ২০১৮

আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছি : সুলতানা কামাল

আমরা-সচেতনতা-সৃষ্টির-জন্য-দাঁড়িয়েছি-সুলতানা-কামাল - সংগৃহীত

বাপার সহসভাপতি মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে একটিই উপায় আছে, তা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। কারণ যখন দেশে সুশাসন ও জবাবদিহির চরম অভাব রয়েছে। যখন একটি দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার চরম অবাব থাকে তখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ জাতি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।

পরিবেশ আন্দোলনকর্মী উত্তম হত্যার বিচার, সড়কপথে পরিবহন নৈরাজ্য ও মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে শনিবার এক প্রতিবাদ সভায় সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনে ২৪টি নাগরিক সংগঠন এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। গত ২১ মে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে বাস চাপায় নিহত হন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী বাপা’র ব্যবস্থাপক উত্তমকুমার দেবনাথ।

সুলতানা কামাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ যেখানেই যাচ্ছে, মরিয়া হয়ে ছুটে যাচ্ছে। অন্যকে মাড়িয়ে কেন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা? এর কারণ পুরো সমাজে অনাচার ঢুকে পড়েছে, যার খেসারত দিচ্ছি আমরা সবাই মিলে।

সুলতানা কামাল বলেন, দেশের মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, সংবেদনশীলতা ভোঁতা হয়ে গেছে। যাঁরা দেশ পরিচালনা করছেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ভাবতে হবে। আমরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দাঁড়িয়েছি।

বাপার সহসভাপতি রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কান্না নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায় না। আমরা তাদের দেশ পরিচালনার অর্থ জোগান দিচ্ছি, তারা আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ দেশের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ কাজে সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ প্রমুখ।

সমাবেশে উত্তমের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি ১৬টি দাবি জানিয়েছে ২৪টি সংগঠন। তারা বলেন, উত্তম দেবনাথ হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচার ও উত্তমের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান দিতে হবে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর যুগোপযোগী সংশোধনী আনা ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পথচারী ও অযান্ত্রিক যানে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরিরও দাবি করেন তারা। উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধসহ যথাযথভাবে বিদ্যমান সড়কপথ পরিচালনা ও মেরামত করার দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, পরিবহন মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তির বিধান চালু করতে হবে। পেশাদার চালকের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মালিকপক্ষ থেকে নিয়োগপত্র প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি উঠে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।


আরো সংবাদ