২৩ অক্টোবর ২০১৮

পাঁচ মাসে সড়কে প্রাণ গেল ১৯৯৫ জনের

-

সারা দেশে গত পাঁচ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১,৯৯৫ জন নিহত ও ৪,৭৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫১ নারী ও ২৫৮ শিশু রয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ১,৯২৬টি দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৪০৩টি দুর্ঘটনায় ৫৪ নারী ও ৩০ শিশুসহ ৪২৫ জন নিহত এবং ৯৩৩ জন আহত হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৫৮ শিশুসহ নিহত হয়েছেন ৪১৩ জন; আর আহত হয়েছেন ৯৯৫ জন। মার্চে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ৩৭৯টি। এতে ৫৩ নারী ও ৭৯ শিশুসহ কমপক্ষে ৩৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছেন ৯৭১ জন।

এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০৮টি। এতে ৫০ নারী ও ৫০ শিশুসহ ৩৮৯ জন নিহত এবং ১০৩২ জন আহত হয়েছেন। মে মাসে ৩৬৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৩৮৩ জন ও ৮৪১ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৯ নারী ও ২৬ শিশু রয়েছে।

অপরদিকে জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির প্রধান কয়েকটি কারণও তুলে ধরা হয় । এসগুলো হলো- বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, দূরপাল্লার সড়কে বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং প্রচলিত ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের অভাবসহ গণপরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাব।

সড়ক দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনাসহ এই খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে। সেগুলো হলো- টার্মিনালসহ সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সকল সড়ক সংস্কার, জাতীয় মহাসড়ক ও আন্ত:জেলা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমূহ চিহ্নিতকরণ, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ ও জাল লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও দৈনিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, চালক ও সহকারিদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিদ্যমান মোটরযান চলাচল আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ।

এব্যাপারে জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াতে সরকারকে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অধিকতর কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ একদিকে ভরা দুর্যোগ মৌসুম, অন্যদিকে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মহাসড়কের নাজুক অবস্থা। তাই সরকার কঠোর না হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি- দুটিই বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ