২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাদুঘর থেকে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা গেলো কই

জাদুঘর থেকে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা গেলো কই - সংগৃহীত

‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা এই কবিতাটি এখন আর জাদুঘরে নেই। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ স্বাধীনতা জাদুঘরে এটি রাখা ছিল। জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ছবির পাশে দীর্ঘদিন থাকা তার কবিতাটি সরিয়ে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কারণ জানতে চেয়েছেন।

একইসাথে কবিতাটি খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট করবেন বলেও জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন কবি।

গত কয়েকদিন ধরেই এ বিষয়ে নির্মলেন্দু গুণ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতভাবে লিখে চলেছেন। গত বুধবার (১৫ মে) প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ওপর রচিত আমার কবিতা- ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ছবির পাশে দীর্ঘদিন ছিল। তা দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আমার ঐ কবিতাটি এখন আর ওখানে নেই। এই জনপ্রিয় কবিতাটি কবে, কার নির্দেশে এবং কেন স্বাধীনতা জাদুঘর থেকে অপসারিত হলো, তা জানতে আমি আপনার দ্বারস্থ হলাম। আমি খুব অসম্মানিত এবং ক্ষুব্ধ বোধ করছি। ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রচিত আমার কবিতার সুরক্ষা আপনার কর্তব্য বলে বোধ করি। শ্রদ্ধা ও প্রীতি জানবেন।’

মঙ্গলবার (১৬ মে) নির্মলেন্দু গুণ ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলেন, ‘আপনার কাছে আমার আবেদন, আমার কবিতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর থেকে উধাও হলো কীভাবে- তা তদন্ত করে বের করুন। আপনার মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় জাদুঘরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কতিপয় বঙ্গবন্ধুবিরোধী আমলা মিলে এই অপকর্মটি করেছে বলে আমার ধারণা। আপনি এদের খুঁজে বের করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় আমি হাইকোর্টে রিট করবো অচিরেই।’

কবি নির্মলেন্দু গুণ জানান, জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে তারা ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই ভূগর্ভস্থ জাদুঘরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। তখন তারা নাকি ওখানে আমার কবিতাটি পাননি। তাই যদি সত্য হবে, প্রশ্ন তা হলো- একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত নিবন্ধে ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে আমার এই কবিতাটি আছে বলা হলো কী করে? ঐ নিবন্ধের প্রকাশ কাল ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল। তার মানে কী? ঐ রিপোর্ট সত্য হলে তো আমার কবিতাটি অপসারণের দায় জাতীয় জাদুঘরের ওপরই বর্তায়।’


আরো সংবাদ