১৮ আগস্ট ২০১৯

আজ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা

আজ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা
আজ থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা - ছবি : সংগৃহীত

মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯-এর পর্দা উঠছে আজ। বাংলা একাডেমির আয়োজনে বেলা ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, বাংলা একাডেমির সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াছ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মীর নওবত আলী প্রমুখ উপস্থিতি ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি।

সংবাদ সম্মেলনে জালাল আহমেদ জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিদেশী অতিথি থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিসরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ৫২৩টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ১৮০টি লিটল ম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬২০টি ইউনিটসহ মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটল ম্যাগকে ১৫৫টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে দু’টি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টল পেয়েছে অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠান।

গ্রন্থমেলা প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে গ্রন্থমেলা।

জালাল আহমেদ আরো জানান, মেলায় প্রতিবারের মতো এবারো ছুটির দিনে সকাল বেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর বিকেলে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে গ্রন্থমেলা। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকছে শিশু কর্নার। সেখানে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবার দুই লাখ ৭৫ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বইমেলার আয়োজন হয়েছিল, এবার তা বিস্তৃত হয়েছে তিন লাখ বর্গফুটে।

এবারের গ্রন্থমেলার প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘বিজয় : ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকেও এবার মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে রাখা হয়েছে।

একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করছেন, তাদের বই বিক্রি বা প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির একটি প্যাভিলিয়ন এবং চারটি ইউনিটের দু’টি স্টল থাকবে। এবারো মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে ‘শিশু চত্বর’। এই কর্নারকে শিশু-কিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সাজানো হচ্ছে।

মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারো প্রতি শুক্র ও শনিবারে একটি সময়কে ঘোষণা করা হবে ‘শিশুপ্রহর’।
খুদে লেখকদের জন্য এবার শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি নতুন আয়োজন থাকছে, যেখানে খুদে লেখকেরা তাদের বইয়ের প্রচারণা করতে পারবে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবাত আলী জানান, বিকাশে বইয়ের মূল্য পরিশোধ করলে ওই ২৫ শতাংশ ছাড়ের পর আরো ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় পাবেন ক্রেতারা।

মেলায় টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের দিকে থাকছে গ্রন্থমেলার মূল দুই প্রবেশ পথ। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢোকা আর বের হওয়া যাবে তিনটি পথ দিয়ে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মোট ছয়টি পথ থাকবে।
বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমি ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

গ্রন্থমেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে থাকবে আর্চওয়ের ব্যবস্থা। এ ছাড়া তিন শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় চলবে নজরদারি। এতে বলা হয়, সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারো মেলার নান্দনিক দিক দেখভাল করছে নিরাপদ মিডিয়া।

গ্রন্থমেলায় ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে ‘মান বিচারে’ সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৮ সালে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে থেকে ‘শৈল্পিক বিচারে’ সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেবে বাংলা একাডেমি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে মান বিচারে সর্বাধিক বই প্রকাশের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং স্টলের নান্দনিক শৈলীর বিচারে ‘শ্রেষ্ঠ’ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেয়া হবে।

এ বছর থেকেই গ্রন্থমেলায় শুরু হচ্ছে নতুন মঞ্চ ‘লেখক বলছি’। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জলাধারের পাশে এই মঞ্চে প্রতিদিন পাঁচজন লেখক যোগ দেবেন। তারা কথা বলবেন তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে এবং পাঠকের প্রশ্নের জবাবও দেবেন।

মেলার বাংলা একাডেমি অংশ একজন ভাষা শহীদের নামে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চারজন ভাষা শহীদের নামে মোট পাঁচটি চত্বর থাকছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ এবং স্বাধীনতা স্তম্ভ নিয়ে বিভিন্ন তথ্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড বসানো হয়ছে মেলা প্রাঙ্গণে।
২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে হবে সেমিনার। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমকালীন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ। পাশাপাশি চলবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সঙ্গীত প্রতিযোগিতা।


আরো সংবাদ




bedava internet