২৬ এপ্রিল ২০১৯

রাশিয়ায় ভালো নেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা

বর্তমানে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয় - ছবি : সংগ্রহ

বিশ্বকাপ ফুটবলের সুযোগে রাশিয়ায় এসেছেন বহু বাংলাদেশী। যেকোনো ম্যাচের একটি টিকিট কিনে ফ্যান আইডি (ভিসা ফি প্রবেশের মাধ্যম) সংগ্রহ করে রাশিয়ায় প্রবেশ করছেন তারা। বিশ্বকাপের পরে ইউরোপ গমনই হয়তো তাদের টার্গেট। তবে একটি চক্রের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় আসা এসব লোকের বিপদে পড়ারও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন বিভাগকে ইতোমধ্যে রাশিয়া এ ধরনের বার্তা দিয়েছে। ফলে নড়েচড়ে বসেছেন তারা। দিন দশেক আগে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে আসা ১৫ বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। তারা ঠিকমতো ম্যাচের বর্ণনা দিতে পারেনি। অন্য দিকে বাংলাদেশ থেকে অনেককে রাশিয়ার বিমানে উঠতে দেয়া হচ্ছে না।

এবার বিশ্বকাপ খেলা দেখতে টিকিট কিনলেই পাওয়া যায় ফ্যান আইডি। আর এ ফ্যান আইডি থাকলেই সহজে মিলে রাশিয়ার ভিসা। রাশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশীরা এসেছেন রাশিয়ায়। যাদের উদ্দেশ্য রাশিয়ায় থেকে যাওয়া। কারো ইচ্ছা রাশিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে পাড়ি দেয়া।

বর্তমানে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির কারণে ডলারের দাম ৬৬ রুবলে গিয়ে ঠেকেছে। এক বছর আগেও যার মূল্যমান ছিল ৩৫ থেকে ৪০ রুবল। এখানে ভালো নেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা। চাকরি কিংবা ব্যবসায়-বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরে অনেকে দেশের পথ ধরেছেন। যারা আছেন, তারা টিকে আছেন অনেকটা লড়াই করে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অনেকে এসেছেন রাশিয়ায়। এখানকার ইমিগ্রেশনের তথ্য মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশী টিকিট কেটে ফ্যান আইডি খুলে রাশিয়া এসেছেন। এখনো আসছেন। তাদের বেশির ভাগই আসছেন সিলেট থেকে।

গত ১৭ জুন এই প্রতিবেদকের সাথেও রাশিয়াগামী বিমানে ছিলেন দুই সিলেটি। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, থেকে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এসেছেন। টাকাও ব্যয় করেছেন অনেক। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র এসব করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাশিয়া থেকে কোন পথে ইউরোপে পাড়ি জমাবেন জানতে চাইলে মস্কোতে এক বাংলাদেশী বলেন, এখান থেকে জার্মানি কিংবা ফ্রান্সে চলে যাওয়ার ইচ্ছা তার। এ জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন কালিংগ্রাদকে। জার্মান বর্ডারের কাছে অবস্থিত কালিংগ্রাদ। রাশিয়ার এই শহরটিতে যেতে হলে পাড়ি দিতে হবে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া। ট্রেনে যাওয়ার সময় এই দু’টি দেশের যেকোনো একটিতে নেমে যেতে পারলেই ইচ্ছে পূরণ হয়ে যাবে। তাই তো তাদের বেশির ভাগই বেছে নিয়েছেন কালিংগ্রাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো। এরই মধ্যে অনেকে এই পথ পাড়ি দিয়ে রাশিয়া ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া সরকার রাশিয়ান পার্সপোর্ট ব্যতীত অন্য দেশের পার্সপোর্টধারীদের ভিসা বাধ্যতামূলক করেছে। যে কারণে কালিংগ্রাদে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ কমে গেছে বাংলাদেশীদের। একমাত্র উপায় বিমান। বাধ্য হয়েই বিমানের টিকিট সংগ্রহ করছেন তারা।

রাশিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দেয়া সম্ভব বলে জানালেন ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসায় করে আসা এক বাংলাদেশী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। তিনি বলেন, ইউক্রেন ও বেলারুশ হয়ে অনেকে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সে চলে যান। তবে ধরা পড়লে জেলে যেতে হবে। তিনি আরো জানান, বৈধভাবেও রাশিয়া থেকে ইউরোপে চলে যাওয়ার সিস্টেম রয়েছে। রাশিয়ায় এসে এখানে এক বছরের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিতে পারলে, তখন ইউরোপে চলে যাওয়া যায়।
রাশিয়ার পুলিশ অবশ্য এসব বিষয়ে বেশ সতর্ক। বিশ্বকাপ শেষে শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যদেশ থেকেও যারা এসেছেন তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে পুলিশ মাঠে নামবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat