২১ এপ্রিল ২০১৯

বর্জ্য বিপর্যয়ের শঙ্কা চামড়া শিল্পনগরীতে

-

আসন্ন ঈদে প্রায় সোয়া কোটি পশু কোরবানি হবে। এই পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে। সেখানে দ্বিগুণের বেশি সক্ষমতা নিয়ে ১১৩ ট্যানারি চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে প্রস্তুত। কিন্তু বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চামড়ার বর্জ্য পরিশোধন নিয়ে। বর্তমানে পশুর সীমিত চামড়ার বর্জ্য নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্যানারিগুলোকে। কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাত শুরু হলে অতিরিক্ত বর্জ্যে চামড়া শিল্পনগরী এক ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তা ও সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার) কর্মকর্তারা।
সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীতে ১৫৫ ট্যানারি প্লট বরাদ্দ পেলেও এখনো সব কারখানা চালু হয়নি। দু’টি ট্যানারি মামলার কারণে বন্ধ থাকলেও ৪০টি ট্যানারি নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। চালু হয়েছে ১১৩টি ট্যানারি। গত বছরের এপ্রিল থেকে ঢাকার হাজারীবাগে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর পর সাভারে উৎপাদন শুরু করলেও বেশির ভাগ ট্যানারি শুধু কারখানার ওয়েট ব্লু (পরিশোধনের প্রাথমিক পর্ব) অংশ চালু করেছে। চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণ করছে অল্পসংখ্যক ট্যানারি। আর এসব ট্যানারিতে স্থাপন করা সিইটিপির চারটি মডিউলে প্রতিদিন ২৫ হাজার কিউবিক মিটার তরল বর্জ্য শোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। এখন ঈদের আগেই প্রতিদিন ২৩ থেকে ২৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধন করা হচ্ছে। গত ২৮ জুলাই প্রায় ২৬ হাজার কিউবিক মিটার ও ২৩ জুলাই ২৮ হাজার ৫৮০ কিউবিক মিটার বর্জ্য সিইটিপিতে এসেছে। ঈদের পর ট্যানারিগুলোতে পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে সিইটিপি সক্ষমতার দেড়গুণ বেশি বর্জ্য আসবে। এই অতিরিক্ত বর্জ্য পরিশোধনে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন যে সময় হাতে আছে, তাতে দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। ফলে শিল্পনগরী বর্জ্যরে স্তূপে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সিইটিপি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
চালু কারখানাগুলো এখন সক্ষমতার অর্ধেক চামড়া প্রক্রিয়াজাত করছে। এ অবস্থায় বর্তমানে চামড়ার বর্জ্যইে ডুবে আছে ড্রেন। পাইপলাইনের ম্যানহোল থেকে বর্জ্য উপচে পড়ছে সড়কে। শিল্পনগরীর পূর্ব-দক্ষিণ কর্নারে সিটি লেদার ট্যানারির সামনের সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এ সড়কে ম্যানহোল থেকে উপচে পড়ে বর্জ্যরে পানি পুরো সড়কে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এলাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
শিল্পনগরী এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলায় আশপাশে বাস করা দায়। বারবার প্রতিবাদ জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বর্ষায় নদীর পানি স্বাভাবিক হলেও সরাসরি বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধে নদীর পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
একাধিক ট্যানারির মালিক ও শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, শিল্পনগরীতে বিসিকের তত্ত্বাবধানে সিইটিপি চালু হলেও প্রায়ই ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য নির্দিষ্ট পাইপলাইনের ঢাকনা উপচে সড়কে এসে পড়ছে। সিইটিপি সার্বক্ষণিক চালু রাখা হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোরবানির পর চামড়া শিল্পনগরীতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে।
চামড়া শিল্পনগরীর সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও সিইটিপির সমন্বয়ক মো: আবদুল কাইয়ুম বলেন, সিইটিপির বর্জ্য পরীক্ষা করে বুয়েটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্জ্য পরিশোধন আদর্শ মানের কাছাকাছি এসেছে। ভারত, চীন ও আমেরিকার মান অনুযায়ী পরিশোধন করা হবে। সিইটিপির সক্ষমতা আছে ২৫ হাজার কিউবিক মিটার তরল বর্জ্য পরিশোধনের। এখনই মাঝে মধ্যে এর চেয়ে বেশি হচ্ছে। ঈদের পরে বর্জ্য দ্বিগুণের বেশি হবে। তখন যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেশি বর্জ্য সিইটিপিতে এলে সঠিকভাবে পরিশোধন ছাড়াই ছেড়ে দিতে হবে। বর্জ্য পরিশোধনের জন্য চার দিন প্রয়োজন হয়। ঈদের পরে সঠিকভাবে পরিশোধন করা হলে শিল্পনগরীর মধ্যে ড্রেন থেকে বর্জ্য সড়কে উপচে পড়বে। তিনি আরো বলেন, এখনো সব ট্যানারি চালু হয়নি। সব ট্যানারি চালু হলে এই সিইটিপি দিয়ে সম্পূর্ণ বর্জ্য পরিশোধন সম্ভব হবে না। এ জন্য অতিসত্বর আরেকটি বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন সিইটিপি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat