১৭ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে

-

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই ‘বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ’ শুরু করেছে পুলিশ। এই বিশেষ সপ্তাহে সারা দেশে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কাজ করবে তারা। ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’Ñ সেøাগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গত রোববার থেকে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়, রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সারা দেশে আজ থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আমাদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি নেই। কেউ আইন মানতে চাই না। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্য দিয়ে আমাদের আইন মানার সংস্কৃতি বাড়বে। ট্রাফিক সপ্তাহ সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা সারা দেশে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ৯টি দাবির মধ্যে ৭টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি দু’টি আইনগত হওয়ায় সোমবার কেবিনেট মিটিংয়ে বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশ সপ্তাহের মতো প্রতি বছর আমরা ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে থাকি। এর ধারাবাহিকতায় সরকারের নির্দেশে গত ৫ আগস্ট থেকে সাত দিন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করাই এই ট্রাফিক সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে চলাচলের জন্য যতটুকু রাস্তার প্রয়োজন ততটুকু রাস্তা নেই। একটি দেশের সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপর। ট্রাফিক এডুকেশন, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক অ্যানভায়রনমেন্ট ও ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্টের ওপর, যা আমাদের দেশে সঠিকভাবে নেই। সবাই পুলিশকে নিয়ে কথা বলে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ শুধু এনফোর্সমেন্ট করে থাকে।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাংলাদেশ রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইড ট্রাফিক পুলিশের সাথে ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ করবে। সরকারের নির্দেশে সারা দেশে সাত দিনব্যাপী (৫ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট) ট্রাফিক সপ্তাহ চলবে। ঢাকা শহরে যানজট বড় সমস্যা। আমাদের অনেক সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আইন না মানার মানসিকতা আমাদের প্রধান সমস্যা। তাই সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যকে ট্রাফিক আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া হবে না। আইন প্রয়োগে আমরা কঠোর হবো, ব্যবহারে হবো নম্র। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিআইপি-ভিআইপি কাউকেই ছাড়া হবে না।


আরো সংবাদ