ঢাকা, সোমবার,১১ নভেম্বর ২০১৯

নগর মহানগর

বুচনা জাল দেশী মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো

০৮ জুলাই ২০১৭,শনিবার, ০০:০০ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৭,শনিবার, ০৭:৩৪


প্রিন্ট
বরিশালের বাজারে বিক্রি হচ্ছে বুচনা জাল   : নয়া দিগন্ত

বরিশালের বাজারে বিক্রি হচ্ছে বুচনা জাল : নয়া দিগন্ত

বর্ষা মওসুমে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে দেশী প্রজাতির মাছ শিকারে হাতে বোনা জাল ও বাঁশের কঞ্চির উপকরণে তৈরি একটি বিশেষ জালের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাতে তৈরি এ মাছের ফাঁদের পরিচিতি স্থানীয় ভাষায় বুচনা জাল নামে পরিচিত। সাধারণত যেখানে পানির প্রবাহ রয়েছে সেখানে এ বুচনা জাল পেতে খুব সহজেই দেশী মাছ শিকার করা হয়। গত কয়েক বছর থেকে বর্ষা মওসুমে দেশী মাছ শিকারে বুচনা জালের ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
বরিশাল বিভাগের কাউখালী ও মঠবাড়িয়া থেকে খুচরা বিক্রেতারা বুচনা জাল পাইকারি দামে ক্রয় করে জেলার বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট ও বাজারে খুচরা মূল্যে বিক্রি করছেন। বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে প্রতি সপ্তাহে জেলায় কয়েক লাখ টাকার বুচনা জাল কেনাবেচা হচ্ছে। বরিশাল নগরীর আদালতপাড়া সংলগ্ন এলাকার বুচনা জাল বিক্রেতা সোলায়মান মিয়া জানান, এ জালের প্রচলন হওয়ায় বাঁশের তৈরি চাইয়ের ব্যবহার কমছে। এমনিতেই দিন দিন বাঁশের সঙ্কট। তা ছাড়া বুচনা জাল দিয়ে মিঠাপানিতে বর্ষা মওসুমে মাছ ধরা ও বহন করা অতিসহজ হওয়ায় দিন দিন এ জালের চাহিদা বেড়েছে। তিনি আরো জানান, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ চার মাস বুচনা জাল দিয়ে মিঠাপানিতে দেশী মাছ ধরা হয়। প্রতিটি বুচনা জাল তিন থেকে চার শ’ টাকায় কেনাবেচা হয়। গ্রামের নি¤œ আয়ের মানুষেরা বুচনা জাল দিয়ে পুরো বর্ষা মওসুমে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শ’ টাকার মাছ ধরে থাকেন।
উজিরপুর পৌরসদরের বাসিন্দা কল্যাণ কুমার বলেন, বর্ষা মওসুমে আগে পাড়ার ছেলেরা একত্রিত হয়ে ডোবা ও নদীতে বড়শি দিয়ে কই, শিং, মাগুর, পুঁটি, টেংরা, পাবদা, বাইন, টাকি, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেছি। পরে বড়শি যুগের পর  কয়েক বছর আগেও হাতে বোনা ঝাঁকিজাল, খেপলাজাল, টানাজাল, ভেসাল, বাঁশের তৈরি চাই দিয়ে মাছ ধরা হতো। এখন আর সেই যুগ নেই। সময়ের সাথে সাথে মাছ ধরার উপকরণের জায়গা দখল করে নিয়ে বুচনা জাল। গত দুই-তিন বছর ধরে এসব অঞ্চলে হাতে তৈরি বুচনা জাল দিয়ে সহজেই মাছ ধরা হয়।
ওই এলাকার মৎস্যজীবী শ্যামল সরকার ও চিত্তরঞ্জন শিকদার বলেন, আগে ভরা বর্ষা মওসুমে একবার খেপলা জাল ফেলে দুই থেকে তিন এবং সুতিজাল ফেলে আট থেকে নয় ঝাঁকা দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। ওই সব মাছ বাজারে বিক্রি করে এলাকার ৪০ থেকে ৫০টি জেলে পরিবারের সংসার চলত। কালের বিবর্তণে মাছ ধরার উপকরণ পরিবর্তন হয়ে বাজারে এসেছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। ওই জালের কারণে ক্রমেই দেশী প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। এরই মধ্যে গত দুই-তিন বছর ধরে এসব অঞ্চলে সহজে মাছ ধরার জন্য হাতে তৈরি বুচনা জাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারেন্ট জাল ও বুচনা জালের কারণে চিরচেনা দেশী প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে।
জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কারেন্ট ও বুচনা জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে দেশী অনেক মাছের পোনা নষ্ট হয়, যা দেশের মিঠাপানির দেশী মৎস্য সম্পদের জন্য তিকর। কারেন্ট ও বুচনা জাল ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মাছের ফাঁদ কারেন্ট ও বুচনা জাল জব্দ করতে শিগগিই জেলার প্রতিটি হাটবাজারে অভিযান চালানো হবে।
 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫