১৮ আগস্ট ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর কাজ করছে ভারতীয় ছাত্ররা

ভারতীয় পাসপোর্ট - ছবি : সংগৃহীত

১২৯ জন ছাত্রের গ্রেফতারির পরে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার আমেরিকাকে ডিমার্শ (প্রতিবাদ পত্র) পাঠিয়েছিল। তার পরই সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করল, ভিসা জালিয়াতিতে নিজেদের অপরাধের কথা আগে থেকেই জানতেন ওই ছাত্ররা।

আমেরিকা এই বক্তব্য শোনার পরেই নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ছাত্রদের স্বার্থ ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে দেখা হচ্ছে। ১১৭ জনের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন ভারতীয় কূটনীতিকেরা। বাকিদের সঙ্গে দেখা করার জন্যও কথাবার্তা চলছে। ছাত্রদের আইনি সহয়তা দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় পড়ুয়াদের সঙ্গে যাতে অমানবিক আচরণ না করা হয়, সে জন্যও বলা হয়েছে আমেরিকাকে।

মার্কিন সরকারের মুখপাত্র ভিসা জালিয়াতির ঘটনাকে ‘দু’দেশের শিক্ষা সং‌ক্রান্ত আদানপ্রদানের ঐতিহ্যের একটি দুর্ভাগ্যজনক স্খলন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমেরিকার মতে, গত বছরেই ভারত থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ছাত্র আমেরিকায় পড়তে এসেছেন। তবে এমন জালিয়াতির ঘটনা খুবই কম ঘটেছে। মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, অর্থনীতিতেও ভিন্‌দেশি ছাত্রদের বিরাট গুরুত্ব। তারা তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে আমেরিকাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।’’ এর সঙ্গেই তার মন্তব্য, ‘‘পড়ুয়াদের আমেরিকায় নিয়ে আসতে গিয়ে কেউ কেউ অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন, সেটাই দুর্ভাগ্যজনক।’’

ডেট্রয়টের এক ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এই ভারতীয় ছাত্ররা কাজের জন্য নিজেদের আমেরিকায় থাকার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে গত সপ্তাহে এদের গ্রেফতার করেছিল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজন ভারতীয়কেও গ্রেফতার করা হয়। মিশিগানের একটি কোর্ট তাদের একজনকে জামিন দিয়েছে।

গাড়িচালকের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া, বীভৎস ঘটনা ঘটালেন চিকিৎসক স্বামী

ভারতের মধ্যপ্রদেশের হোসাঙ্গাবাদ থেকে একজন নামী অর্থোপেডিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি নিজের ৩০ বছর বয়সী গাড়িচালককে খুন করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে কেটে সেগুলো অ্যাসিডে ডুবিয়ে বাড়িতে রেখেছিলেন যাতে সব তথ্য প্রমাণ লোপাট করা যায়। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

৫৬ বছর বয়সী চিকিৎসক সুনীল মন্ত্রীকে নিজের গাড়িচালক বীরেন্দ্র পচৌরিকে সোমবার খুন করেন। বীরেন্দ্র সন্দেহ করতেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে ওই চিকিৎসকের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই চিকিৎসকের স্ত্রী বাড়িতেই একটি বুটিক চালাতেন। তবে বীরেন্দ্রর মৃত্যুর পর থেকে বীরেন্দ্রর স্ত্রী পলাতক। ‘গাড়িচালকের স্ত্রীর সঙ্গে চিকিৎসকের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, আর তাই তিনি পালিয়ে গিয়েছেন', বলে পিটিআই-কে জানিয়েছেন পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট অরবিন্দ সাক্সেনা।

অরবিন্দ আরো বলেছেন ওই চিকিৎসক প্রথমে বীরেন্দ্রকে মাসে ১৬ হাজার টাকা প্রতি মাসে মাইনে তার বিনিময় গাড়ি চালক হিসেবে রেখেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের অভিযোগ, বীরেন্দ্র তাকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল স্ত্রীর থেকে দূরে থাকার জন্য।

মঙ্গলবার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, ‘‘আমরা ওই চিকিৎসকের বাড়িতে গোপন কোনো কাজ চলছে খবর পেয়ে পৌঁছই।'' পুলিশ দেখে, চিকিৎসক অত্যন্ত অস্থির হয়ে রয়েছেন এবং মেঝেয় রক্তের দাগ। বাড়িতে পুলিশ দেখে চিকিৎসক ভেঙে পড়েন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন।

ডক্টর মন্ত্রী ইত্রাসির সরকারি সিভিল হাসপাতালে কাজ করতেন। জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই নিজের গাড়িচালককে খুন করার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। সে জন্য বাড়িতে এক গ্রাম ভর্তি অ্যাসিড এবং কাটারি মজুত করে রেখেছিলেন।

সোমবার যখন বীরেন্দ্র পাচৌরি নিজের দাঁতে ব্যথা হচ্ছে বলে ডাক্তারের কাছে আসে চিকিৎসক তাকে বসিয়ে রেখে সুযোগ বুঝে সার্জিকাল ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে দেন। তখন রাত ন'টা। এরপরে তিনি দ্রুত হাতে তার গলার আরো বেশ কিছু জায়গা কেটে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ অফিসার বলেন, ‘‘ওই ড্রাইভারকে খুন করার পরে চিকিৎসক তার লাশটা একতলার শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটেন। এই পদ্ধতি চলে প্রায় রাত একটা পর্যন্ত। এর পরে তিনি ক্লান্ত হয়ে স্থির করেন বাকি অংশটা পরের দিন ব্যবস্থা করবেন। পরের দিন সকালে তিনি বীরেন্দ্রর জামাকাপড় সরিয়ে ফেলেন। সেগুলো এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুপুরের দিকে তিনি লাশের টুকরোগুলোকে অ্যাসিডে ডুবিয়ে তথ্য প্রমাণ লোপাটের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তখনই পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ড্রাইভারের দেহের অনেকগুলো টুকরো পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।

 


আরো সংবাদ

bedava internet