২২ এপ্রিল ২০১৯

কতটুকু শক্তিশালী পরমাণু সাবমেরিন অরিহন্ত?

কতটুকু শক্তিশালী পরমাণু সাবমেরিন অরিহন্ত? - ছবি : সংগৃহীত

ভারত সোমবার জানিয়েছে যে, তারা তাদের পারমাণবিক ত্রয়ী অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। নিজস্বভাবে তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্ত তার প্রথম প্রতিরোধক টহল শেষ করেছে এবং এর মাধ্যমে পারমাণবিক ত্রয়ী প্রস্তুত হয়েছে।

এর অর্থ হলো অরিহন্ত এখন পারমাণবিক ওয়্যারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে গভীর সমুদ্রে অভিযানে যেতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যালিস্টিক পারমাণবিক সাবমেরিন আইএনএস অরিহন্তের ক্রু-দের স্বাগত জানান। সাবমেরিনটি সম্প্রতি তার প্রথম প্রতিরোধ টহল সেরে ফিরেছে এবং এর মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক ত্রয়ী পূর্ণ হলো”।

পুরো জাতির জন্য এটাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, আইএনএস অরিহন্তের সাফল্য ভারতের নিরাপত্তা চাহিদাকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি এক টুইটে বলেন, “নামের মতোই আইএনএস অরিহন্ত ১৩০ কোটি ভারতীয়কে বাইরের হুমকি এবং এ অঞ্চলের শান্তির পরিবেশ বিনষ্টকারী শক্তি থেকে রক্ষা করবে”।

প্রকল্পের সাথে জড়িত টিমের সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দীপাবলীর শুভেচ্ছা জানান মোদি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, “আলো যেভাবে সব অন্ধকারের ভীতিকে দূর করে দেয়, একইভাবে আইএনএস অরিহন্তও দেশে ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিয়ে আসবে”।

পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপারে ভারতের নীতি হলো ‘নো-ফার্স্ট-ইউজ’। সেই বিবেচনায় এসএসবিএন দ্বিতীয় আঘাত ঘানার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র। কারণ এই সাবমেরিন পারমাণবিক রিয়্যাকটর চালিত। পানির নিচে এটা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করতে পারে যেখানে কোন প্রতিপক্ষ তাদের চিহ্নিত করতে পারবে না। অন্যদিকে, স্থল ও বিমান-ভিত্তিক যে সিস্টেম রয়েছে, সেগুলো সহজেই চিহ্নিত হতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এক টুইটে বলেছেন, “ভারত এর মাধ্যমে সেই সামান্য কিছু দেশের অন্তর্ভুক্ত হলো যারা পারমাণবিক সাবমেরিনের ডিজাইন তৈরি করতে পারে, এটি বানাতে এবং পরিচালনা করতে পারে”।

দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত রিপোর্টে আগে বলা হয়েছিল যে, ২০১৬ সালের আগস্টে নিরবে অরিহন্তকে বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও স্বীকার করা হয়নি। এটা ৬০০০ টন ওজনের এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হালকা পানির রিয়্যাকটর দিয়ে উৎপাদিত ৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে এটা পরিচালিত হয়।

এই সিরিজের দ্বিতীয় সাবমেরিন অরিঘাট বর্তমানে সমুদ্রে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষার পর এটাকে বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ভারতের এস-৪০০-এর মূল্য রুবলে পরিশোধ কেন ওয়াশিংটনের জন্য বড় সমস্যা

রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইউরি বোরিসভ বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতের সাথে এস-৪০০ চুক্তিটি রুবলেই হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে এটাই রাশিয়ার জন্য প্রথম বড় ধরনের রুবলে করা প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রায় ৩৩০ বিলিয়ন রুবলের বিনিময়ে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ অ্যাডভান্সড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাবে।

সামরিক পর্যবেক্ষক ও অত্যাধুনিক অস্ত্রাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বোরিস রোঝিন বলেন, রুবলের বিনিময়ে এস-৪০০ বিক্রি করে ওয়াশিংটনের কাছে একটা বার্তা দেয়া হয়েছে।

এই বিশ্লেষক ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারতের দিক থেকে ওয়াশিংটনকে এটা দেখানো হয়েছে যে, পররাষ্ট্র নীতির প্রধান ইস্যুগুলোতে তারা ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরশীল নয়। দেশের নেতারা এটা নিয়ে কথা বলেছেন যে, ভারত যার কাছ থেকে প্রয়োজন অস্ত্র কিনবে”।

রোঝিনের মতে, রুবলের ভিত্তিতে করা এই চুক্তি আসলে “ওয়াশিংটনের প্রতি একটা বার্তা প্রদর্শন, যারা তাদের অনুরোধ না শোনার কারণে নয়াদিল্লীর প্রতি তাদের অননুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ করে আসছে এবং হোয়াইট হাউজ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হুমকি দিয়ে আসছে। এইভাবে, ভারত এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা দেশ হিসেবে অনেক বড় এবং কোন দেশের পুতুল হিসেবে তারা ব্যবহৃত হতে রাজি নয়”।

ডলার সিস্টেমকে দুর্বল করা

রোঝিনের মতে, “রাশিয়ার মুদ্রায় এস-৪০০ কেনায় কিছু বোনাস মিলেছে এখানে। ডলার ভিত্তিক সিস্টেমের আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রেও এটা একটা পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে। আর এ ধরনের পদক্ষেপের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অস্ত্র থেকে শুরু করে জ্বালানি ও অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রেও এটা করা হচ্ছে”।

সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশানের তথ্যমতে, বিশ্বের সমস্ত লেনদেনের ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে ডলারের ভিত্তিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংহাই কোঅপারেশান অর্গানাইজেশান এই ডলার সিস্টেমকে সক্রিয়ভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউরেশিয় এই সংস্থাটির সাথে রয়েছে রাশিয়া, চীন ও মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। ২০১৭ সালে এতে ভারত ও পাকিস্তানও যুক্ত হয়েছে।

আর্মস এক্সপোর্ট ম্যাগাজিনের এডিটর-ইন-চিফ আন্দ্রেই ফ্রোলভ বলেছেন এস-৪০০ চুক্তিটি রুবলে হওয়ায় এটা রাশিয়ার দুই প্রতিষ্ঠান রোজবোরোনএক্সপোর্ট এবং ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি টেকনিক্যাল কোঅপারেশানের জন্য একটা বিজয়। এই প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকাশ্যেই ডলারের চুক্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

 


আরো সংবাদ

আন্দোলনেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে : খন্দকার মোশাররফ সৌদিতে হামলার দায় স্বীকার আইএসের ঈশ্বরগঞ্জে খেলতে গিয়ে ফাঁস লেগে শিশুর মৃত্যু শ্রীলঙ্কা হামলা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য : বিস্ফোরণের আগে কী করছিল আত্মঘাতীরা! প্রেমিকের পরকীয়া : স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে তরুণীর কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনী সজাগ রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজবাড়ীতে বিকাশ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার শ্রীলঙ্কায় এবার মসজিদে হামলা ব্রুনাইয়ের সাথে বাংলাদেশের ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর মানিকছড়ি বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে সেনাবাহিনীর অনুদান শবেবরাতের নামাজের জন্য বেরিয়ে সহপাঠীদের হাতে খুন স্কুলছাত্র

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat